ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১ আপডেট : ১২ মিনিট আগে
শিরোনাম

আবার কক্সবাজার

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২৮

আবার কক্সবাজার

শীতের হাওয়ার উঁকিঝুঁকি শুরু না হলে তেমন কেউ সমুদ্রের দিকে যেতে চায় না। অথচ এই সিজনে নীল সমুদ্রের উপর আরেক নীল আকাশ। স্বচ্ছ দিন। দারুণ আবহাওয়া। মন্দ লাগবে না কিন্তু। আর হুট করে ঝমঝম বৃষ্টি না হয় নেমেই গেলো, ক্ষতি কী? সমুদ্র তো এমন, যার কাছে বারবার ছুটে যাওয়া যায়। আসুন জেনে নিই আরেকবার, কোথায় কীভাবে কখন কোনদিকে কক্সবাজার।

কলাতলী ও লাবনী সৈকত: জেলা শহর থেকে নিকটে হওয়ার কারণে কলাতলী এবং লাবনী সৈকত পর্যটকদের নিকট প্রধান আকর্ষণ বলে গণ্য হয়ে থাকে। সৈকতের এই দুইটি পয়েন্টের মাঝের দূরত্ব মাত্র পনের মিনিট। লাবণী পয়েন্টে পাওয়া যায় ঝিনুক মার্কেট এ ছাড়া ছোট-বড় অনেক দোকান যেখানে নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করে। আর কলাতলী সৈকতে আছে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট, যেখানে বসে এক মগ কফি পান করতে করতে মনোরম সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।

হিমছড়ি: মেরিনড্রাইভ ধরে কক্সবাজার থেকে ১৮ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত। সবুজ পাহাড় আর অপরুপ ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে আর একটি আকর্ষণ হল, পথের বামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ ঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি থেকে ধেয়ে আসা অনবরত ঢেউয়ের খেলা। বর্ষা মৌসুমে হিমছড়ির ঝর্ণা অধিক জীবন্ত ও প্রাণবন্ত থাকে। এখানে পাহাড় চূড়ায় একটি রিসোর্টও রয়েছে, যেখান থেকে নীল জলরাশির বিশাল সমুদ্রকে সহজেই দেখা যায়।

ইনানি সৈকত: কক্সবাজার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের আকর্ষণীয় এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম ইনানী সৈকত। কক্সবাজার থেকে এর দূরত্ব ৩৫ কিমি। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সৈকতটি দিনকে দিন অধিক পর্যটক প্রিয় একটি জায়গা হিসেবে পরিচিত লাভ করছে। আমরা জানি কক্সবাজার সৈকতের পানি খানিকটা ময়লা বা ঘোল কিন্তু ইনানি পরিস্কার পানির কারণে পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের উৎকৃষ্ট স্পট বলে বিবেচিত। ভাটার সময় এখানকার সমুদ্রের মাঝে অনেক প্রবাল পাথর দেখা যায়।

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক: এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারী পার্ক। পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা পার্কের আয়তন ২,২২৪ একর। কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিমি উত্তরে এই সাফারী পার্কের অবস্থান। সরকারি তথ্য মতে, এখানে বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। বিনোদনের জন্য ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতীর কয়েক হাজার পশু-পাখী।

সেন্টমার্টিন ও ছেড়াদ্বীপ: জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এর আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিমি। কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস বা জীপে করে টেকনাফ গিয়ে সেখান থেকে সচরাচর চলাচলকারী জাহাজ সি-ট্রাক বা ট্রলারে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ যেতে সময় লাগবে এক থেকে সোয়া এক ঘণ্টা এবং সেখান থেকে সমুদ্র পথে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। ছেড়া দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত নয়নাভিরাম একটি দ্বীপ। সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে ৪০ মিনিটে এবং ভাটার সময় পায়ে হেঁটেও ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়। হেঁটে গেলে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ: দীর্ঘদিন আগে এক প্রবল ভূমিকম্পে জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দেশের একমাত্র এই পাহাড়ি দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে নৌপথে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিমি। স্পিডবোটে যেতে সময় লাগে চল্লিশ মিনিট। বাংলাদেশের অন্যতম শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা মহেশখালীতে অবস্থিত। এখানে আছে জলাভূমি আর প্যারাবন। শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। এ ছাড়া এখানে পাহাড় চূড়ায় রয়েছে আদিনাথ মন্দির। মহেশখালী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন আর একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এই দ্বিপের আয়তন লম্বায় ৭ কিমি প্রস্থ ২.৫ কিমি। সোনাদিয়া রয়েছে অনন্য সুন্দর এক নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত। সাগর ঘেরা দ্বীপে রয়েছে কেয়া-নিশিন্দার ঝোপ, ছোট বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। আরো আছে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি। এই দ্বিপের সৈকত জুড়ে রয়েছে অজস্র লাল কাঁকড়া।

বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম চর্চা কেন্দ্র রামু: কক্সবাজারের নিকটতম উপজেলা রামু। স্থানীয়ভাবে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চার অন্যতম পিঠস্থান হিসেবে আজও টিকে আছে। এখানকার রাংকুট বনাশ্রমে সংরক্ষিত রয়েছে সম্রাট আশোকের সময়কার বুদ্ধ মূর্তি। এ ছাড়া একাধিক মন্দিরে রয়েছে অনেক বৌদ্ধ মূর্তি। মহামূল্যবান পাথর, ব্রঞ্জ, সোনার তৈরি মূর্তি রয়েছে। ছয় ফুট উঁচু পাটাতনে স্থাপিত রয়েছে মহামতি গৌতম বুদ্ধের তের ফুট দীর্ঘ ব্রঞ্জ মুর্ত। আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশে ব্রঞ্জ নির্মিত বুদ্ধের সর্ববৃহৎ মূর্তি। পাশেই উত্তর মিঠাছড়ি বনবিহারে নির্মিত হয়েছে বুদ্ধের ১০০ ফুট দীর্ঘ শয়ন মুর্ত।

কক্সবাজার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে বার্মিজ বাজার, শুটকি বাজার, লাইট হাউস, মাহাসিংদোগী বৌদ্ধ খ্যাং, মাথিনের কূপ, বদর মোকাম মসজিদ, চিংড়ি প্রকৃয়াকরণ এলাকা, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, কানা রাজার সুড়ং, কুতুবদিয়া দ্বীপের বাতিঘর, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ শাপলা সমুদ্র সৈকত ইত্যাদি। ঘুরাঘুরি করার জন্য জীপ বা চাদের গাড়ি ভাড়া করা যেতে পারে। দূরে যাওয়ার ক্ষেত্রে লোকাল বাস অথবা বিজার্ভ গাড়ি ব্যবহার করা যায়। মহেশখালীসহ অন্যান্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট বা ট্রলারই ভরসা। কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানে ঘোরার পাশাপাশি সৈকতে রয়েছে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা, স্পিডবোট, ওয়াটার বাইক, মোটরবাইক, সার্ফিংসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা। হাতে যথেষ্ট সময় ও শরীরে সামর্থ থাকলে উল্লেখিত সমস্ত কিছু ঘুরে দেখতে ও উপভোগ করতে দশ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনাই যথেষ্ট। তবে প্রধান আকর্ষণগুলি ঘুরে দেখতে তিন থেকে চার দিনেই যথেষ্ট।

যাতায়াত: আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় দশ থেকে বার ঘণ্টা, বিমানে ৫০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া ৮০০-২০০০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯), গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭), শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪), এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০), সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮) । ঢাকা কমলাপুর থেকে চিটাগাং মেইল, তুর্ণানিশিথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিমান সংস্থাগুলোর যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪), নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১), ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০), রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩), ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)। ক্লাস ভেদে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে।

থাকার ব্যবস্থা: বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যাও কম নয়। সৈকতের নিকটের বেশিরভাগ হোটেলই ভাল মানের। হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। মৌসুম ভেদে অর্থাৎ পিক ও অফ-পিক অনুযায়ি রুমের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পিক এবং মে থেকে আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। অফ-পিক টাইমে হোটেল ও ক্লাস ভেদে রুম ভাড়া ২৫-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। সৈকত থেকে একটু দূরত্বে সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে। সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০), হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২), হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯), হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫), সায়মন বিচ রিসোর্ট ( ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭), ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯), লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬), হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫), এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪), হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩), হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১), হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭), হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪)। পর্যটনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪), মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১), হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২)। ইনানির আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হল, লা বেলা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)। রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০), ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০)। আর ইকো রিসোর্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)।

খাওয়া-দাওয়া: আমরা জানি প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট থাকে, যেখানে বরাবরই খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ হোটেলে সকালের নাস্তা রুমের ভাড়ার সাথে যুক্ত অর্থাৎ কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে থাকে। সেক্ষেত্রে লাঞ্চ ও ডিনার বাইরে কোথাও করতে চাইলে কোনো চিন্তা নেই কারণ এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক রেস্টুরেন্টে। কলাতলী রোডে অবস্থিত রেস্টরেন্টের সংখ্যা বেশি। ঝাউবন, লাইভ ফিস, কয়লা, পৌশী, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা, কাঁশবন, পানকৌড়ী, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে এবং ডিভাইন সি স্টোন ক্যাফে অন্যতম। উল্লেখিত খাবার জায়গাগুলিতে ভাতের সাথে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার আগে দাম জেনে নেওয়া জরুরি। খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রথমত কক্সবাজার যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটে মূলত সতর্কতা ও সচেতনতার অভাবে। লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত বেশকিছু গুপ্ত খাল রয়েছে। অসাবধানতার কারণে বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই খালে পরে প্রাণ হারায়। সুতরাং, ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা চৌকির সংকেত অনুসরণ করে সৈকতে গোসলে নামলে বিপদ থেকে দূরে থাকা যায়। চৌকি থেকে ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ি লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ পতাকার সময় গোসল করা নিরাপদ। প্রয়োজনে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা যেতে পারে। প্রবাল সাধারণত ধারালো হয়ে থাকে। সুতরাং, ইনানি ও সেন্টমার্টিনের সৈকতে প্রবালের ওপর হাঁটার সময় সাবধানে হাটতে হবে। সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ রাখার খাতিরে কোনো প্রকার আবর্জনা এবং অপচনশীল দ্রব্য যেমন, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত