ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৬

প্রিন্ট

ভারতের হোটেলে যশোরের নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

ভারতের হোটেলে যশোরের নারীর রহস্যজনক মৃত্যু
যশোর প্রতিনিধি

ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে আসমা ইসলাম (৩৬) নামে যশোরের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আসমা ইসলাম যশোর শহরের আরবপুর পাওয়ার হাউজপাড়ার শাহানুর ইসলামের স্ত্রী। শহরতলীর নওদাগা গ্রামের মঞ্জু নামক এক শিক্ষকের বাড়িতে ভাড়া থাকেতেন তিনি।

বুধবার বিকেলে যশোর থেকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারতের বনগাঁ শহরের বাটা মোড়ের ‘শ্যামা প্রসাদ’ নামক একটি হোটেলে উঠেছিলেন আসমা।

আসমা ইসলামের মেয়ে মিশু খাতুনের দাবি, তার মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। যশোর শহরতলীর নওদাগ্রামের আবুল কাশেম তার মাকে হত্যা করে পালিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তিনি তার পরিবারের লোকজন নিয়ে যশোর কোতয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে তার মায়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় তিনি এসব তথ্য জানান।

মিশু খাতুন জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জানুয়ারি বিকেলে বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন তার মা এবং বড় খালা মনোয়ারা বেগম। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ শহরের বাটারমোড়ে ‘শ্যামা প্রসাদ’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তারা। ওই হোটেলের একটি কক্ষে তার মা ও আবুল কাশেম এবং অপর একটি কক্ষে তার বড় খালা মনোয়ারা বেগম ছিলেন।

পরদিন ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ওই হোটেলের এক কর্মচারি ঝাড়ু দেয়ার জন্য যান। আসমার কক্ষে গিয়ে দেখেন- দরজা খোলা এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। হোটেল কতৃপক্ষ বিষয়টি পাশের কক্ষে থাকা আসমার বড় বোন মনোয়ারাকে জানায়।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা যায় তিনি মারা গেছেন। পরে বনগাঁ থানা পুলিশ আসমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত আসমার পরিবারের লোকজন শুক্রবার বিকেলে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করতে আসেন। এসময় তারা আসমার লাশ বাংলাদেশে আনার জন্য থানার পরামর্শ চান।

কোতয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম এ বিষয়ে তাদের ইমিগ্রেশন পুলিশ অথবা বিজিবির সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেন।

মিশু খাতুন আরো জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি আরবপুর পাওয়ার হাউজপাড়া মসজিদ গলিতে। কিন্তু বর্তমানে তারা শহরতলীর নওদাগ্রামের মঞ্জু স্যারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রায় দেড় বছর ধরে নওদা গ্রামের গাড়িচালক আবুল কাশেম তার মাকে মোবাইল ফোনেসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।

তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আসমার সাথে আবুল কাশেমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। আসমা ভারতে যাওয়ার আগে কাশেম সেখানে গিয়ে হাজির হন এবং একই হোটেলে উঠেন। আসমার মৃত্যু হলে কাশেম হোটেল থেকে পালিয়ে যায়। কাশেম দেশে ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয় সূত্রটি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত