ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৬:৩৫

প্রিন্ট

চুয়াডাঙ্গার স্কুলগুলোতে ঠিকমতো হয় না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস

চুয়াডাঙ্গার স্কুলগুলোতে ঠিকমতো হয় না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস

Evaly

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

সপ্তাহে একদিন স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছেনা চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কোনো স্কুলেই। এদিকে শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে বললেও তারা তা নেন না বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। জেলার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সম্পর্কে কিছুই জানে না।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন স্কুলেগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না হওয়ায় মাল্টিমিডিয়ার সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রায়ই স্কুলে। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের আগ্রহ থাকলেও নানা সমস্যার কারণে আধুনিক এ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। তবে জেলার স্কুলগুলোতে নানা সমস্যা থাকলেও নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় বলে দাবি করেন জেলার শিক্ষা কর্মকর্তরা।

জানা গেছে, ২০১০ সালে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে সরকার প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিশ হাজার পাঁচশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষাকার্যক্রমের জন্য ল্যাপটপ-কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করা হয়। তবে সরকারের এই পরিকল্পনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গায় জেলায় ৪৪৫টি প্রাথমিক ও ১৪১টি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। জেলার ৩৫৮টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সবকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এর ধার ধারেন না। জেলার বেশিরভাগ স্কুলের মাল্টিমিডিয়ার শ্রেণিকক্ষ থাকে তালাবদ্ধ। এছাড়া অনেক স্কুলে দেখা যায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে ল্যাপটপ ঠিকমতো ব্যবহারই করতে পারেন না শিক্ষকরা। এছাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুলে গিয়ে দেখা যায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য সরকারের দেয়া ল্যাপটপ শিক্ষকরা ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত কাজে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ৫৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কি তা তারা জানে না। স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাতুল জানায়, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের কথা শুনলেও কোনদিন স্যার ম্যাডামরা তা নেয়নি।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ৭০ নং খাসবাগুন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী লিমা খাতুনও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সম্পর্কে কিছু জানে না।

চুয়াডাঙ্গা শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিজিয়া খাতুন বলে, স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সকল সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয় না। এতে করে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা চাই শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিয়মিত হোক।

নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে শিক্ষকরা বলছেন, সরকারিভাবে আইসিটিতে অল্প দিনের যে ট্রেনিং দেওয়া হয় তা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়ার সরঞ্জাম থাকলেও শিক্ষকদের অদক্ষতা, স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের কারণেই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস বন্ধ রয়েছে।

বোহালগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস মাঝে মধ্যে নেয়া হয় তার স্কুলে। তবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে ভিডিও কন্টেন্ট ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া খুবই জটিল ব্যাপার। যার কারণে সহকারি শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে আগ্রহী হয় না।

খাসবাগুন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী জানান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সম্পর্কে প্রশিক্ষিত যে শিক্ষক রয়েছেন তিনি নিজেই এ বিষয়ে অদক্ষ। তাছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে আইসিটি যে ট্রেনিং সরকার শিক্ষকদের দিয়েছে তাতে কোন লাভ হয়নি। যে কারণে শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

প্রাথমিক স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের দূর্দশার কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলার অনেক প্রাথমিক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়ার সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ায় ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। তারপরও যেসব স্কুল সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিচ্ছে না, সেসব স্কুলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন চক্রবর্ত্তীর দাবি, চুয়াডাঙ্গায় মাধ্যমিক সব স্কুলেই শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া হয়। জেলার প্রতিটি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নেয়া হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষা অফিস।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত