ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:০৭

প্রিন্ট

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত: সংসদে আনোয়ার খান

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত: সংসদে আনোয়ার খান
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন খান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতা,মাতৃত্বকালিন ভাতাসহ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

আনোয়ার হোসেন খান তার সংসদীয় এলাকার (রামগঞ্জ) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের অগনিত কর্মীর অঙ্গহানি করা হয়েছে। অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অথচ বর্তমানে সেখানে কোনো জুলুম-নির্যাতন নেই, সন্ত্রাস নেই, চাঁদাবাজি নেই। মানুষ এখন শান্তিতে বসবাস করছে। রামগঞ্জ এখন শান্তির জনপদ।

এমপি আনোয়ার হোসেন খানের সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ

ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি আমাকে একাদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীকের মাধ্যমে এই মহান সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি একইসাথে ধন্যবাদ জানাই আমার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-১, রামগঞ্জের সকল জনসাধারণকে, মা ও বোনদেরকে যারা আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে প্রথমবারের মত এই মহান সংসদে পাঠিয়েছেন।

মাননীয় স্পিকার

আমি গভীরভাবে স্মরণ করতে চাই, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি স্মরণ করতে চাই ইতিহাসের কালরাত্রি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকলকে, ঘাতকের গুলিতে নিহত বঙ্গমাতা বেগম মুজিবকে, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, ছোট্ট শিশু শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ছোটভাই শেখ আবু নাসেরসহ নিহত পরিবারের সকল শহীদদের।

আমি স্মরণ করতে চাই ৭৫ এর ৩ নভেম্বর জেল হত্যায় জাতীয় চার নেতাকে। ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস, আমার ভাষা বাংলা, আমার মায়ের ভাষা বাংলা, বাঙালির ভাষা বাংলা, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই সেই ৫২ সালের ভাষার জন্য নিহত সালাম, জব্বার, বরকত, রফিকসহ সকল ভাষা শহীদদেরকে। স্মরণ করতে চাই, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে। আমি স্মরণ করতে চাই, ৩০ লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ মা বোনদের যাদের ইজ্জত ও জীবনের বিনিময়ে আমাদের এই মহান স্বাধীনতা। এছাড়া সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের সকল শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

মাননীয় স্পিকার

জাতীর জনকের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমি আমার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-১, রামগঞ্জসহ ২০ লক্ষ জনগোষ্ঠির জেলা লক্ষ্মীপুরবাসীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। যিনি না হলে এই বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। স্বাধীন মানচিত্র হতো না। এই সংসদও হতো না। আমার মতো গ্রামের কৃষকের সন্তান আজকে এই সংসদে আসার সুযোগ হতো না।

মাননীয় স্পিকার

একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে গত ৯ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে অর্জিত দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ ইতিহাসে উন্নয়নের এক দলিল। এই ভাষণের জন্য আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানাই।

মাননীয় স্পিকার

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪র্থ বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহনের পর জাতীয় জীবনে নতুন এক প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত উদ্যোগে আরও সুসংহত ও গতিশীল হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ১১ বছরে দিনবদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। এ সময়ে রাজস্ব আহরণ, মাথাপিছু আয়, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্সের পরিমাণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

একইসঙ্গে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন; সড়ক, রেল, নৌ-যোগাযোগ ও গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন; বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি; স্থানীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

তাছাড়া শিক্ষার হার ও মান উন্নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধাব ভাতা, স্বামীপরিত্যক্তা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সরকার গৃহীত এ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যআয়ের দেশে, ২০৩০ সালে মধ্যে এসডিজি অর্জনসহ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবো।

মাননীয় স্পিকার

সড়ক ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে, নতুন নতুন ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। বাস্তবে রুপ নিচ্ছে চট্টগ্রামের স্বপ্নের কর্ণফুলি নদীর টানেল। আজকের বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তার ধর্মচর্চা করতে পারছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দিন বদলের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তির অভূতপুর্ব ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।

মাননীয় স্পিকার

দেশে অবোকাঠামো উন্নয়নে যেমন-

মেট্রোরেল প্রকল্প

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

কর্ণফুলি টানেল।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প।

পায়রা সমুদ্র বন্দর ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর।

এলএনজি টার্মিনাল।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

বছরের শুরুতেই সকলকে নতুন বই বিতরণ।

পদ্মা সেতুসহ এই সকল বৃহৎ প্রকল্পসমূহ হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নতুন নতুন চমক।

এ সকল বৃহৎ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে মালেশিয়া- সিঙ্গাপুরের মত উন্নত বাংলাদেশ।

মাননীয় স্পিকার

বিগত ২০০৯ সালের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশের সড়কপথ, নৌপথ-আকাশপথ এবং বিদুতের অবস্থা ছিল ভংগুর ও দেশ ছিল গভীর সংকটে। বর্তমানে সড়কপথ, নৌপথ- আকাশপথ এবং মেট্রোরেল এবং বিদুতে আমাদের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সড়ক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ হাজার কি. মি. মহাসড়ক তৈরি করা হয়েছে। ৫০০ কি. মি. মহাসড়ককে চার লেনে উন্নিত করা হয়েছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থয়ানে দেশের বৃহত্তম পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে, যা এখন দৃশ্যমান। মেট্রোরেলের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দেশে রেল যোগাযোগের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিগত ১০ বছরে প্রায় ৫০০ কি. মি. নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২০০ মেগা ওয়াট থেকেপ্রায় ২২,০০০ মেগা ওয়াটে উপনীত হয়েছে।

আকাশ পথে যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে ১০ টি নতুন সুপরিসর বিমান ক্রয় করা হয়েছে। নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার নদীর প্রায় ১০ হাজার কি. মি. ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে।রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ম পর্যায়ের কাজ সমপন্ন হয়েছে। প্রাধান্য দেয়া হয় জ্বালানি, যোগাযোগ, তথ্য- প্রযুক্তি, মানব সম্পদ গঠন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের উপর, একই সাথে গুরুত্ব পায় কৃষি, পল্লি উন্নয়ন ও খাদ্য নিশ্চিতকরনের ফলে দেশের অভ্যন্তরে মোট ১ কোটি ৩৪ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মাননীয় স্পিকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যেগে

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহকেন্দ্রীক ৪৩ লক্ষ খামার তৈরি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮২ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

১ লক্ষ ৪৫ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে ৫৬ লক্ষ একর কৃষি জমি প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৬হাজার ১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীকরণ

৪০ লক্ষ বয়স্ক ভাতাভোগীকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান হচ্ছে।

৫০ লক্ষ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরন করা হয়েছে।

২০২১ সালের মধ্যে ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকরা হচ্ছে।

মাননীয় স্পিকার

স্বাস্থ্য-শিক্ষায়বিপুল পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিসহ দেশে ১১১টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় হাসপাতালে ৫০০ এর অধিক এম্বুলেন্স বিতরন করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোড়গোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ করা হয়েছে।

মাননীয় স্পিকার

আমার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জে বিগত ২০০১ হতে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের বিচরণক্ষেত্র ছিল। প্রায় প্রতিদিনই পত্র-পত্রিকায় খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, সনাতন ধর্মের লোকজনের বাড়িঘর দখলের খবর আসতো। সেভেন স্টার, ফাইভ স্টার বাহিনীর অত্যাচারে আমার রামগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে অগণিত আওয়ামী লীগের র্কমীর শারীরিক অঙ্গহানিসহ, অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিক্রিয়িা পাওয়া যেতো না। এখন আমার নির্বাচনী এলাকা রামগঞ্জে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার হওয়ায় কোনো জুলুম নেই, চাদাঁবাজি নেই, ইয়াবা সন্ত্রাসী, মদ-জুয়া নেই, অত্যাচার নেই, মানুষ এখন শান্তিতে বসবাস করছে।

মাননীয় স্পিকার

রামগঞ্জ এলাকাটি অবেহেলিত এলাকা, বিগত ৪৭ বছরে এখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য না থাকায় রামগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ব্রিজ-কালভাট, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। কিন্তু বিগত ১ বছরে রাস্তাঘাট সমূহ, স্কুল-কলেজ ,হাসপাতাল, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। রাতে অন্ধকারে বিভিন্ন বাজার, মসজিদ- মন্দির, কলেজ এবং সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার রাস্তার দুপাশে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সোলার লাইটের আলো ঝলমল করে দৃষ্টি নন্দিত করছে।

মাননীয় স্পিকার

আমি আপনার মাধ্যমে সরকার এবং স্ব-স্ব মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে করে ৫ লক্ষ লোকের রামগঞ্জ উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় রাস্তাঘাট সমূহ, স্কুল-কলেজ হাসপাতাল, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নের এবং মহিলাদের রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য গ্যাস লাইন সরবরাহ এবং যুবপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিল্পকলা একাডেমি ও মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধুর নামে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং রেলমন্ত্রণালয় কর্তৃক রেললাইন স্থাপন করে রামগঞ্জ উপজেলার জনগণকে সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা দিয়ে মডেল একটি রামগঞ্জ তৈরী করার সহযোগীতা কামনা করছি।

মাননীয় স্পিকার

মুজীব শতবর্ষর উপলক্ষে আমার হদয় থেকে দুটি কথা কবিতার মত বলতে চাই-

হে বীর হে মহানায়ক, তোমাকে দেখিনি আমি। জানি না শতবর্ষ আগে সেই উজ্জ্বল ১৭ই মার্চ তোমার জন্মক্ষণে পৃথিবীতে কি উল্কাবৃষ্টি হয়েছিল কিনা ?

মধুমতি নদীর দুরন্ত স্রোত ঘেঁষে টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্টগ্রামে সেইদিন ফুটেছিল কিনা অগণিত রঙিন ফুল? জানি সেদিন তুমি এলে, আলৌকিক এক দেবশিশু হয়ে, নিভৃত রাতের উঠানে। তখন কি পূর্ব বাংলায় এই চিরবঞ্চিত জনপদ কি আনন্দে মেতে উঠেছিল!

বৃটিশ শাসনের নাগপাশ ছিঁড়ে যখন স্বাধীনতার স্বাদ পেল এই জনপদ, তখন তুমি এক তরুন তুর্কি।

তখন বাংলার সমস্ত শোষণের বিরুদ্ধে তুমি এ জনপদের রক্ষাকবচ, যার হৃদয় সিংহের মত অধিক। মন তোমার অতল সমুদ্র।

এলো পাকিস্তান, এলো অত্যাচারের নতুন এক মোড়ক। আমাদের ভাষা - আমাদের বেঁচে থাকা বিপন্ন হলো আবার! বায়ান্নোর দিনগুলো সাক্ষ্মী তোমার অকুতোভয় নেতৃত্বের।

ষাটের দশকের অধিকার আদায়ের মিছিলে তুমি ছিলে সিপাহসালার, আলোর অধিক এক বাতিঘর।

কেঁপে কেঁপে উঠলো স্বৈরতন্ত্র, তোমার বজ্রকণ্ঠে। সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে তুমি এক নিঃসঙ্গ হিমালয়।

এলো ৭ই মার্চ, রেসকোর্সে ময়দানে বর্জ্র কন্ঠে ধ্বণিত হল এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

মাননীয় স্পিকার আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত