ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২৮

প্রিন্ট

চাঁদপুরে ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

চাঁদপুরে ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহরে ডাকাতির মামলায় মজিবুর রহমান বেপারী নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও মো. আবুল কাশেম, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান এবং মো. কামালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসাথে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

এর মধ্যে আবুল কাশেমকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার উভয়দণ্ড একই সময়ে কার্যকর হবে।

সোমবার দুপুর ১টায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুজিবুর রহমান খেড়িহর পূর্বপাড়ার মঞ্জুর আহমেদের ছেলে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবুল কাশেম মৃত হাসমত উল্যাহর ছেলে, আনোয়ার হোসেন মো. চাঁন মিয়ার ছেলে, মাহবুবুর রহমান মৃত আব্দুল্লাহ মাষ্টারের ছেলে। তাদের বাড়ি খেড়িহর গ্রামে। কামাল কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার নরপাইয়া পূর্বপাড়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টায় শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহর গ্রামের মো. ফারুকের বসতঘরে অধিকাংশ মুখোশধারী একদল ডাকাত অস্ত্রশস্ত্র ডাকাতি করতে আসে। ওই সময় ঘরে থাকা লোকজন টের পেয়ে ডাকচিৎকার করলে জেঠাত ভাই তাজুল ইসলাম এগিয়ে আসে। তখন উপস্থিত ডাকাতরা তাজুল ইসলামকে ইটপাটকেল মারে এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়।

ঠিক ওই মুহূর্তে তাজুল ইসলামের পিতা বুদরুছ ঘরের দরজা খুলে বের হলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এই সময় ডাকাতের তাণ্ডবে প্রত্যেক পরিবারের লোকজন এলোমেলো অবস্থায় ছুটাছুটি করলে ডাকাতরা ফারুকের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্নালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

অপরদিকে গুলিবিদ্ধ তাজুল ইসলামের পিতা বুদরুছকে আহত অবস্থায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহিমের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই শাহরাস্তি থানায় ৩৯৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন সময়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুরুল আফসার ভুঁইয়া তদন্ত শেষে উল্লেখিত আসামিদের ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে প্রমাণ পাওয়ায় ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকারপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মামলায় প্রথমে আসামি ৬ জন থাকলেও আবুল খায়ের নামে একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরববর্তীতে মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর চলমান অবস্থায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক ৩৯৬ ও ৪১২ ধারায় আসামিদেরকে পৃথক সাজায় দণ্ডিত করেন।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে মজিবুর রহমান, আবুল কাশেম ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছে এবং বাকী দুই আসামি মাহবুবুর রহমান ও কামালের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

সরকারপক্ষের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সেলিম আকবর, অ্যাড. আনেয়ার গাজী, অ্যাড. রাজেশ মুখার্জি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত