ঢাকা, রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২০, ২২:০৭

প্রিন্ট

এসিল্যান্ডকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া সেই ব্যাংকারের আত্মহত্যা চেষ্টা

এসিল্যান্ডকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া সেই ব্যাংকারের আত্মহত্যা চেষ্টা

Evaly

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করানোর ছবি মোবাইলফোনে তোলার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে ফেসবুকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা জাফর আহমেদ থানা হাজতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। নিজ কৃতকর্মের অনুশোচনায় থানা হাজতের দেয়ালে মাথায় আঘাতের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার।

ঢাকা থেকে আটক ব্যাংক কর্মকর্তা জাফরকে রোববার গভীর রাতে মণিরামপুর থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

এদিকে পুলিশ সোমবার বিকেলে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জাফর আহমেরদকে যশোর আদালতে সোপর্দ করেন। তবে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর না করে তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মণিরামপুর থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার লাঙ্গলমোড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিকীর ছেলে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ তার ফেসবুক আইডিতে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে ধর্ষণের হুমকিসহ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় সাইয়েমা হাসান বাদি হয়ে জাফর আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে শনিবার মণিরামাপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা জাফর আহমেদকে ডিবি পুলিশ আটক করে।

খবর পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি টিম রোববার ঢাকায় যান। ওই রাতেই ঢাকা মহানগর উত্তর ডিবি পুলিশের কার্যালয় থেকে জাফর আহমেদকে নিয়ে মণিরামপুর থানায় আনা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হান জানান, সোমবার ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জাফর আহমেদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু অতিরিক্তি চিফজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে আটক ব্যাংক কর্মকর্তা জাফর আহমের নিজ কর্মের অনুশোচনায় রোববার রাতে থানা হাজতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে থানা থেকে আদালতে নেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করে তিনি বার বার বলছিলেন- এ জঘন্য কাজের জন্য আমার শাস্তি হওয়া উচিত।

তিনি আরো জানান, রোববার রাতে হাজতে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে পুলিশি পাহারার কারণে ব্যর্থ হয়েছি।

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লোকসমাগম ঠেকাতে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে গত শুক্রবার বিকেল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় প্রথমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে দক্ষিণ শ্যামকুড় গ্রামের নূর আলী গাজী ভ্যান চালিয়ে আসছিলেন, অন্যজন দক্ষিণ লাউড়ী গ্রামের আসমান তুল্লাহ রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। কিন্তু এ সময় তাদের মাস্ক না থাকায় পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েমা হাসান শাস্তি হিসেবে তাদেরকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অপর ভ্যানচালক দক্ষিণ লাউড়ী গ্রামের বাবর আলীকেউ একইভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং ছবি তোলেন। এ ছবি তোলার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সামলোচনার ঝড় ওঠে। এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ।

এ ঘটনায় এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে শনিবার প্রত্যাহারের পর তাকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

এনএইচ/

shopno
  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত