ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ১৯:০৩

প্রিন্ট

পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক-শ্রমিকরা

পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক-শ্রমিকরা
সুশান্ত সাহা

পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক ও শ্রমিকরা। যেখানে প্রতিদিন গুনতে হতো হাজার টাকার চাঁদা তা এখন দিতে হচ্ছে না তাদের। এমনকি যেসকল চাঁদাবাজরা চাঁদা তুলতো তাদেরও দেখাও যাচ্ছে না রাস্তায়। কথাগুলো বলছিলেন, গাজিপুরের চান্দুরা থেকে যাত্রাবাড়ী সাইন বোর্ড রুটের ড্রাইভার খালেক হাওলাদার।

তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন এ রুটে গাড়ি চালাতে হলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সমিতির নামে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হতো। সব মিলে প্রতিদিন ১১শ’ টাকা দিতে হতো। টাকা না দিলে গাড়ি রাস্তার পাশে সাইড করে রাখতো। এমনকি টাকা না দিলে মারধরও করতো। পুলিশের অভিযানের পর থেকে এখন তাদের দেখা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাস মালিক বলেন, এবার করোনার কারণে হয়ত কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কী হবে তা নিশ্চিত নয় তারা।

রাজধানীতে হঠাৎ করেই থেমে গেছে সড়কের চিরচেনা চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। সাইনবোর্ড থেকে সাভার পর্যন্ত অন্তত ১০-১৫ স্থানে বেশ কয়েকটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক ও পিকআপ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদায় আদায় করা হতো। বর্তমানে তা কোথাও কোনো সড়কের মোড়ে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য চোখে পড়েনি। হঠাৎ করে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা রয়েছেন বেশ স্বস্তিতে।

হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদার টাকা দিতে দেরি কিংবা অস্বীকৃতি জানালেই চালক কিংবা হেলপারকে মারধর করা হতো। প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই চাঁদা আদায়ের জন্য ২০০-৩০০ যুবক রাতদিন হাতে লাঠি নিয়ে সড়কে অবস্থান নিতেন।

এদিকে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি করা কয়েকটি মামলায় সাভারে ২৬ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ বিভিন্ন থানায় এক ডজন মামলা দায়ের করে পুলিশ। এ পর্যন্ত এসব মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ে নির্দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অপরদিকে গতমাসে পরিবহনে সেক্টরে চাঁদাবাজির অভিযোগে অন্তত ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের তিন সংগঠন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে গত ৯ জুন মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এবং মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, সমিতি ও ইউনিয়নের নামে কোথাও চাঁদা তোলা যাবে না। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সমিতি ও ইউনিয়নের সদস্যদের সাংগঠনিক চাঁদা আদায় করা যাবে। তবে তা সংশ্লিষ্ট সমিতি ও ইউনিয়নের অফিসে জমা করবেন। এছাড়া পথে কোনো গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা যাবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। সারা দেশে সমিতি ও ইউনিয়নগুলোর কাছে এ সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশন পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত