ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২০, ২০:০৮

প্রিন্ট

করোনার অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

করোনার অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন মাশরাফি
নড়াইল প্রতিনিধি

করোনায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, আমি আমার সন্তানদের থেকে দীর্ঘ ১৭ দিন বিচ্ছিন্ন আছি। একজন পিতা হিসেবে এটা কতোটা কষ্টের তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন আছি। তারা আমার কাছে আসতে পারছেন না। এটা অনেক বেদনার।

সোমবার লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক কনফারেন্স জরুরি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মাশরাফি বলেন, আক্রান্ত হলেও আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করবো আমার লোহাগড়ার জনগণের কল্যাণে। আমি শুধু আপনাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। হয়তো আমরা করোনাকে আটকাতে পারবো না, তবে এখনি সকলে একমত হয়ে কাজ শুরু করলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমিয়ে এলাকাকে নিরাপদ রাখতে পারবো।

সভায় মাশরাফি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনসহ সরকারি কর্মকর্তাগণ, পুলিশ সদস্যসহ যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, লকডাউন শব্দটি এখন সবার কাছে তার আবেদন হারিয়েছে বলে আমার মনে হয়। তাই লকডাউন নয়, আমি বলতে চাই - লোহাগড়া ইজ আন্ডার আইসোলেশন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা তার বক্তব্য কালে ১০টি বিষয় উল্লেখ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১০ জন করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক কাজ করবে, এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা। যে টিমে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ এলাকার সচেতন মানুষেরা থাকবেন। চলমান বিপদের দিনে একসাথে টিমওয়ার্ক করলে সবার মাঝে একটি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হবে বলে মনে করে নডড়াইল এক্সপ্রেস।

টেস্টের পরিমাণ বাড়িয়ে পজিটিভদের আইসোলেট করা আর নেগেটিভরা যেন ঘরের বাইরে না যায়, এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আশানুরূপ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

'আইসোলেটেড লোহাগড়া' করার লক্ষ্যে লোহাগড়ার সাথে কয়েকদিন জন্য সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মাশরাফি।

তিনি বলেন, নেক্সট ১৪ দিন লোহাগড়া আইসোলেটেড থাকুক। এটা আমার সিদ্ধান্ত। তবে আমার সিদ্ধান্তকে আমি কখনো চূড়ান্ত মনে করি না। আপনারা সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিবেন, তবে আমি আশা রাখবো লোহাগড়াকে ভালো রাখতে আপনারা সর্বোত্তম সিদ্ধান্তটি নিবেন।

এ সময় লোহাগড়া বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে মাশরাফি বলেন, আমার সিদ্ধান্ত আমি কখনো আপনাদের কারো ওপর চাপিয়ে দিবো না। আপনারাও লোহাগড়ার মানুষ, লোহাগড়ার স্বার্থে আপনারা একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিবেন। আমরা সকলে জানি এতোদিন আপনারা কষ্ট করেছেন, নিজেদের সুরক্ষার জন্য আপনারা আর একটু সহযোগিতা করবেন বলে সকলে প্রত্যাশা করে।

ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাশরাফি বলেন, ভ্রাম্যমাণ বাজার শুরু হলে আমাদের ব্যবসায়ী ভাইদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমে আসবে।

মাশরাফি করোনা আক্রান্তদের সুস্থতা কামনা করে বলেন, ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন পৌরসভার কাউন্সিলর আনিসুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইতি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ অনেকেই।

এ সময় মাশরাফি আরো বলেন, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন আগামী ১০ তারিখ থেকে লোহাগড়া ও নড়াইল সদরে দুটি বুথের মাধ্যমে লোহাগড়া ও সদরের করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রয়জোনে অক্সিমিটার ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করবে। এ সময় মাশরাফি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর কমিটি করে আইসোলেটেড লোহাগড়া বাস্তবায়নে সকলকে আহ্বান জানান।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন খান নিলু মাশরাফি বিন মর্তুজার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, এটি বাস্তবায়নে সকলে একমত। এ সময় উপস্থিত সকলে সমস্বরে একমত হওয়ার কথা জানান।

নিজামউদ্দিন খান নিলু বলেন, ইতোমধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে লোহাগড়া উপজেলায় করোনা মোকাবেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী বনি আমিনকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট দৌলত আহমেদ খান, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, লোহাগড়া ও লক্ষীপাশা বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, স্বেচ্ছাসেবকসহ সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা যুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাশরাফি বিন মর্তুজা করোনা আক্রান্তের ১৪তম দিনে টেস্ট করালেও তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের তত্বাবধানে তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার লোহাগড়া উপজেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫৮ জন। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৮ জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত