ঢাকা, রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৬:৫০

প্রিন্ট

মৃত্যুবার্ষিকীটাও নীরবেই চলে গেলো

মৃত্যুবার্ষিকীটাও নীরবেই চলে গেলো
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

৪ আগষ্ট ছিল বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বস্ত্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। অনেকটা নীরবেই চলে গেল মৃত্যুবার্ষিকী। একটা সময় এ চৌধুরী বাড়িতে লোকসমাগম, চাকচিক্য আর জৌলুশ থাকলেও এখন তা ভূতুরে বাড়ি। নেই কোনো লোকসমাগম। নেই কোনো কোলাহল। মনে হয় এ যেন এক শ্মশানপুরী। বাড়িতে যেন মরিচা পড়েছে। দেয়ালের আস্তর খসে পড়ছে। দেখার কেউ নেই। এভাইে চলে যায় কত জন্ম আর মৃত্যুবার্ষিকী। কেউ খবরও রাখে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনি করেই কথাগুলো বলছিলেন রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর এলাকার এক বিএনপি নেতা।

নীরব-নিস্তব্ধ হয়ে আছে এক সময়কার বহুল আলোচিত চৌধুরী বাড়ি। নিথর দাঁড়িয়ে আছে কাঞ্চনে। কিন্তু সেই ভিড়ভাট্রা নেই। নেই নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি। নেই সেই বাড়ির মানুষটি। এক সময়ে যেখানকার কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে সাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল নিষিদ্ধ। বাড়ির সামনের রাস্তায় লোক চলাচলে ছিল বিধিনিষেধ। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কমীদের তীক্ষ্ণ নজর ছিল বাড়িটির চারদিকে। মন্ত্রী ও দলের শীষ পর্যায়ের নেতারাও যেখানে ঢুকতেন জবুথবু হয়ে। সেই প্রবল প্রতাপ চৌধুরী বাড়ি এখন সুনসান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নিবাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সবচেয়ে আলোচিত মন্ত্রীত্বের পদ পান আব্দুল মতিন চৌধুরী। সে সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু রূপগঞ্জ নয় সারাদেশের অনেক নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্ত যেত এ বাড়ি থেকে।

২০০১ সালের নিবাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে অসুস্থতার কারণে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৬ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই আব্দুল মতিন চৌধুরি ক্রমে ক্রমে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সিদ্ধেশ্বরীতে ভাতিজার বাসায় অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করেন।

ক্ষমতা পালাবদলের পরপরই নীরব হতে থাকে চৌধুরী বাড়ি। ওয়ান ইলেভেনের পর নীরব নয় একেবারেই নিস্তব্ধ হয়ে গেলো চৌধুরী বাড়ি। ২০১২ সালের ৪ আগষ্ট আব্দুল মতিন চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় পুরো বাড়িটিই যেন ফিকে হয়ে গেছে। নিভে গেছে আশার প্রদীপ।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলো ঝলমল চাকচিক্যে ভরা আলোচিত চৌধুরী বাড়িটি এখন অন্ধকারচ্ছন্ন। বাড়িটির গেইটে ঝুলছে তালা। বাড়ির প্রধান ফটক এবং ভেতরের খালি স্থানে জমে আছে শুকনো পাতার স্তূপ। প্রায় দুই বছর যেতে না যেতেই বদলে গেছে বাড়ির দৃশ্যপট।

এখন বাড়িতে প্রবেশের অনুমতির জন্য ভিড় করেন না কেউ। আসে না শীষ মন্ত্রী-এমপিদের গাড়ি। রাজনীতি এখন আর কোনভাবেই স্পর্শ করতে পারছে না বাড়িটিকে। এক সময় প্রায় ২০ জনের মতো পাইক-পেয়েদা বাড়িটির দায়িত্বে ছিল। এখন আর কাউকেই দেখা যায় না। মূল ফটকে ঝুলছে বিশাল তালা। চিরচেনা সেই চৌধুরি বাড়িটিকে এখন আর যেন চেনাই যায় না।

স্থানীয়রা আরো বলেন, আব্দুল মতিন চৌধুরি ছিলেন তাদের গর্ব। রূপগঞ্জে মতিন চৌধুরির মতো আর কেউ মন্ত্রীত্ব পাবেন কি-না সেটা নিয়ে সন্দিহান। তিনি মন্ত্রী থাকার কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি ও প্রশাসনের বড় বড় কতারা এখানে এসে ভিড় জমাতেন। আজ মতিন চৌধুরী নেই। নেই বাড়ির জৌলুসও।

আব্দুল মতিন চৌধুরীর ভাতিজা ফারুক চৌধুরী বলেন, চাচা থাকাকালীন বাড়িতে ভিড় লেগে থাকতো। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে দলের শীষ নেতাকর্মী এমনকি সাধারণ মানুষ আসতো এ বাড়িতে। এখন কেউ আসে না। চাচায় মারা যাওয়ার পর পুরো বাড়িটি ভূতুরে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত