ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:১৪

প্রিন্ট

ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের সমঝোতা প্রশ্নবিদ্ধ

ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের সমঝোতা প্রশ্নবিদ্ধ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পরদিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সমঝোতা হয়। সমঝোতার পর বুধবার দিনভর দুই গ্রুপ এক সঙ্গে নির্বাচনী গণসংযোগ চালান।

এদিকে বুধবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে সমঝোতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে রনি খানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়। সানি নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পাবনা-৪ আসেন উপ- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) কেন্দ্রীয় নেতা ও কয়েকজন এমপির সামনেই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

দফায় দফায় সংঘর্ষে ১২ নেতা-কর্মী আহত হন। এঘটনার পর ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগ, পৌর যুবলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

এরপর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সদর (পাবনা-৫) আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথাকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সমঝোতার পরদিন বুধবার(১৬ সেপ্টেম্বর) দুই গ্রুপ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চালান। পাবনা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ও পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টুর নেতৃত্বে দুই গ্রুপের দুই নেতা (আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও ইছাহক আলী মালিথা)কে এক সঙ্গে নিয়ে নৌকার প্রচারণায় নামেন।

এরপর দু’গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাবে সম্মেলন কক্ষে সভায় এসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার করার ঘোষণা দেন। রোববার সংঘটিত সংঘর্ষের জন্য স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির গভীর ষড়যন্ত্র ছিলো বলেও তারা দাবি করেন।

এদিকে বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) রাতে দায়েরকৃত মামলায় বাদি হয়েছেন আহত রনি খানের চাচা মজিবর রহমান খান। মামলায় ১৩ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত আরো ৩০-৪০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলা নং ২৫। এ মামলায় স্থগিতকৃত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত: গত ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানানোকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপিদের সামনেই দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীদের ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে রনি খান ও যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু । এদের দু’জনকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন জানান, বুধবার রাতে মামলার পর পরই তারা অভিযান চালান এবং সানি নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) তাকে পাবনায় আদালতের মাধ্যমে জেল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুজনিত কারণে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসেন উপ- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঈশ্বরদী আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) কেন্দ্রীয় নেতা ও কয়েকজন এমপির সামনেই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত