ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫১

প্রিন্ট

ডা. আয়নাল হত্যার রায়ে পরিবারের অসন্তোষ

ডা. আয়নাল হত্যার রায়ে পরিবারের অসন্তোষ
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. আয়নাল হক হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিবার। রায়টি পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েকশ' নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বনপাড়ার অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতের বড় ছেলে বনপাড়া পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর ডা. আয়নাল হক হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায়ে জীবিত ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে মাত্র ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর অপেক্ষায় ছিলাম দোষীরা শাস্তি পাবে, আমরা উপযুক্ত বিচার পেয়ে শান্তনা খুঁজবো। এমন রায়ে আমার পরিবারসহ, উপজেলা-পৌর আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী ও সুশিল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণ চরমভাবে হতাশ ও মিস্মিত।

এ বিষয়ে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। উচ্চ আদালত সুবিচার নিশ্চিত করবেন বলে পরিবার ও বড়াইগ্রামবাসীর প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ২০০২ সালের ২৮ মার্চ রাত পৌনে ৯টার দিকে বনপাড়া সাহেবপাড়ার ডা. আনছারুল হকের চেম্বার থেকে পুত্রবধূ নাজমা বেগমকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলেন তিনি। এ সময় থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপির ১৭ নেতাকর্মী তার ওপর চড়াও হয়। এসময় তাকে রামদাসহ ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে চেম্বারের সামনে ফেলে রাখা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৯ মার্চ দুপুরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ নাজমা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম, সাহের উদ্দিন মোল্লাসহ ১৭ বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বড় ছেলে আরও বলেন, একইদিন তারা (বিএনপি নেতাকর্মী) মহিষভাঙ্গার ডা. আয়নাল হকের গ্রামের বাড়িসহ, বনপাড়া, দিয়ারপাড়া, কালিকাপুর, নটাবাড়িয়া এলাকায় তার নিকটাত্মীয়সহ আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের শতাধিক বাড়িতে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট চালায়। তাদের বাঁধার কারনে ডা. আয়নাল হকের তিন ছেলেসহ স্বজনরা লাশ দাফনে অংশ নিতে পারেননি।

ডা. আয়নাল হক একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই পুলিশ প্রহরায় লাশ দাফন করা হয়, যা তৎকালীন স্থানীয়-জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০০২ সালের ১৫ অক্টোবর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনপাড়ায় যান এবং ডা. আয়নাল হকের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা ও পরিবারকে শান্তনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার তাই করবেন। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এখন এই বিচারকে যথার্থ করতে ডা. আয়নাল হকের পরিবার ও বড়াইগ্রামবাসীর দাবির প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন বলে আশা করেন পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম জাকির হোসেন। একইসাথে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার ডা. আয়নাল হকের পরিবারটিকে রক্ষার আকুল আবেদন জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডা. আয়নাল হকের সহধর্মীনি জাহানারা বেগম, বড় পুত্রবধূ ও মামলার বাদী নাজমা বেগম, মেজ ছেলে কেএম জামিল হোসেন, ছোট ছেলে কেএম জিল্লুর হোসেন জিন্নাহ, মেয়ে আসমা হক শাপলা, জামাতা অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু, সাধারণ সম্পাদক ও লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসহাক আলী, বড়াইগ্রাম পৌর মেয়র আব্দুল রাবেক সরদার, জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদ, বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়াম্যান মোঃ মোমিন আলী, জোনাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তোজাম্মেল হক, নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিন, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম খান, চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খোকন মোল্লা, মোঃ শামসুজ্জোহা সাহেব, বনপাড়া পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, বড়াইগ্রাম পৌর ও সাত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অনেকেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত