ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১৯:১২

প্রিন্ট

উত্তরাঞ্চলে মাঝরাতে নামছে ঘনশীত

উত্তরাঞ্চলে মাঝরাতে নামছে ঘনশীত
ছবি: রংপুর
রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর

হিমালয়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত দেশের উত্তরের আকাশে এবার আগাম শীতের হাত ছানি। দুপুর না পেরুতেই তপ্ত রোদের মেলায় শী শী হিমেল বাতাসে শীত অনুভূত হচ্ছে। আর মাঝরাতে নামছে ঘনশীত। এই অবস্থা থাকছে সকাল ৬টা পর্যন্ত। গ্রাম-গঞ্জের দৃশ্য দেখলে মনে হবে অগ্রহায়ণের শুরুতেই পুরোদমে শীত নেমেছে হিমালয় ঘেঁষা এই অঞ্চল।

প্রতি বছরই এ অঞ্চলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে শীতের প্রকোপটা বেশী হয়। তাই কষ্টও বাড়ে দ্বিগুণ। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলসহ প্রান্তির মানুষদের দিন কাটে নিদারুণ কষ্টে। তার উপর এ বছর যোগ হয়েছে করোনা সংক্রমণ। এই দু’য়ে আগাম সতর্ক রংপুর জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আগাম চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটি।

রংপুর জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্র জানিয়েছে, শীতের শুরুতেই এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে ৫১ হাজার ছয়’শ কম্বল পেয়েছে রংপুর। এই কম্বল প্রতিটি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠানো হচ্ছে ৪’শ কম্বল।

এছাড়াও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ১ লাখ কম্বল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে নতুন করে চাহিদা পাঠানো হবে বলেও জানায় সূত্রটি।

গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, সকালের আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন। সূর্য তা দিলেও তাতে গরমের বদলে উষ্ণতা মিলছে। মানুষজন শীতের সূর্যের তা নিচ্ছে।

রংপুরের গঙ্গাছড়া নোহালি এলাকার বয়োবৃদ্ধ লোকমান আলী জানান, আমাদের বাড়ির পাশে তিস্তা নদী। চার দিকে চর। তাই ঠাণ্ডা বেশি। আমাদের এই এলাকায় সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্য দেখা যায় না। সারাদিনই রোদ থাকলেও তাতে গরমভাব নেই। বিকেল হলে কুয়াশা পড়ে। রাতে কম্বল বা কাতা গায়ে দিয়ে থাকতে হয়।

কথা হয় গজঘণ্টা এলাকার কৃষক মোরশেদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার একটু আগেই শীত এসেছে। আমরা শীতের মোটা কাপড় পড়ে সকাল সন্ধ্যা বের হই। নগদ-বন্দরের বাজার ও ফুটপাতে দেখা মিলছে গরম কাপড় বিক্রির।

এ বছর শীত জেঁকে বসার ইঙ্গিত দিয়ে রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুর বিভাগে তাপমাত্রা প্রতিদিন কমতে শুরু করছে। গত বুধবার পর্যন্ত ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই-একদিনে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। বুধবার রাত থেকে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে কিছুটা। আবার কুয়াশাও পড়ছে।

অন্য বছরের তুলনায় এ বছর যেমন বৃষ্টি বেশি ছিলো, তেমনি শীতের তাপমাত্রাও বেশি নামবে বলে আশঙ্কা করছে রংপুর আবহাওয়া অফিস।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, রংপুর অঞ্চলে এবার আগেই শীত শুরু হয়েছে। তবে শীতের সময় ভাইরাসজনিত রোগ বাড়তে পারে। এজন্য সবাইকে সর্তক হতে হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শীত বেশি হলে করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগী, শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হতে পারেন।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, শীত বাড়লে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সে কারণে আগাম সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অর্ধলাখ কম্বল সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আরো পাঠানো হবে। এছাড়াও মানুষ ঘরের বাইরে বের হলে যেনো মাস্ক পড়ে সে কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে তবুও আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত