ঢাকা, সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৪১

প্রিন্ট

কলেজছাত্র জিসান হত্যা, মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলেজছাত্র জিসান হত্যা, মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য
জিসান হত্যায় পাঁচজন গ্রেফতার। ছবি: প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

জিসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে শিবালয় থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ জনকে।

বৃহস্পতিবার শিবালয়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শিবালয় থানার ছোট শাকরাইল গ্রামের আজিজুল মোল্লা (১৮), রাব্বি (১৯), নাজমুল (১৯), শাহীন (১৯) ও পূর্ব ঢাকাই জোড়া গ্রামের হাসিবুল হাসান (১৮)।

শিবালয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন, আসামিরা সবাই সমবয়সী এবং শিক্ষার্থী। তাদের সনদপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বয়স নিশ্চিত করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা বলেন, ঢাকার মোহাম্মদপুর হাজী মকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ জিসান ১৫ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ১৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্তের পর ওই মরদেহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। দুই দিন আগে জামা-কাপড় দেখে ওই মরদেহ জিসানের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। এরপর হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ।

প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আজিজুল ও হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাব্বিসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা বলেন, আসামি রাব্বি হোসেন একসময় মোহাম্মদপুরে থাকতেন। সেখানে জিসানের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। জিসানের এক বান্ধবীর সঙ্গে রাব্বির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একদিন জিসানের সহযোগিতায় রাব্বি তার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে যান। ঘুরতে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক তাদের আটকে রাব্বির মোবাইল এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার কিছুদিন পর প্রেমিকার সঙ্গে রাব্বির ব্রেকআপ হয়। এরপরই রাব্বির সন্দেহ হয় মোবাইল এবং নগদ টাকা ছিনতাই ও প্রেমিকার ব্রেকআপের ঘটনায় জিসান জড়িত। এজন্য জিসানের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় রাব্বির। সেই সঙ্গে রাব্বি তার বন্ধুদের বিষয়টি জানান। পরে বন্ধুরা সবাই জিসানকে ডেকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করেন।

এদিকে, জিসানেরও এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ের বড় বোনের বাড়ি শিবালয়ে। পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে মেয়েটি শিবালয়ে বেড়াতে এলে রাব্বি ফোন করে জিসানকে যেতে বলেন।

১৫ নভেম্বর শিবালয়ে গেলে রাব্বি ও তার বন্ধুরা নদী দেখার কথা বলে জিসানকে নদীর পারে নিয়ে যান। এরপর পেছনে হাত বেঁধে পেটে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে জিসানকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর জিসানের মরদেহ নদীতে ভাসিসে দেন বন্ধু ও তার সহযোগীরা। দুদিন পর নদী থেকে সিজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যার ঘটনায় সিজানের বাবা শাহীন আলম মামলা করেছেন। শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত