ঢাকা, শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৫৫

প্রিন্ট

সাগরের বুকে তাডুয়া সৈকত আর লাল কাঁকড়ার মিছিল

সাগরের বুকে তাডুয়া সৈকত আর লাল কাঁকড়ার মিছিল
ছবি- প্রতিনিধি

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে নদীবেষ্টিত একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা। পূর্বে মেঘনা, উত্তরে ইলিশা, পশ্চিমে তেঁতুলিয়া আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এর মাঝে ৩ হাজার ৪০৩ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ব-দ্বীপ জেলা ভোলা। রূপালী ইলিশ, ধান আর সুপারির জন্য বিখ্যাত এ জেলা। এই জেলার উপশাখা হিসেবে রয়েছে চরমানিক, চরজব্বার, চরনিউটন, চরনিজাম, চরজংলী, চরমনপুরা, চর ফয়েজ উদ্দিন, চর জহিরউদ্দিন, চরকচুয়া, চর সৈয়দ, ভাসান চর, চরপাতিলা, চর কুকরী মুকরী ও ঢালচর সহ ছোট বড় অসংখ্য চর। এ সকল চরের মাঝে লুকিয়ে আছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তসহ অপরূপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি। এখানে না আসলে অনুভব করা যাবে না এর সৌর্ন্দয্য।

জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে চরফ্যাশন উপজেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রায় দেড়শ' বছর আগে জেগে যঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর। এই চরের তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকতটি অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

বিচ্ছিন্ন এই ঢালচর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার নদীপথ ট্রলারে পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরের একেবারে দক্ষিণের মোহনায় মনোরম ম্যানগ্রোভ বন সমৃদ্ধ তাড়ুয়া চর দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন সারি সারি কেওড়া গাছ।

তাড়ুয়ার সৈকতে দেখা মিলবে চকচকে সাদা বালি আর লাল কাঁকড়ার মিছিল। পাশাপাশি দেখা মিলবে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। কর্মচাঞ্চল্য জীবনের মাঝে কিছুটা সময় অবকাশ যাপনের জন্য প্রকৃতিপ্রেমীরা ইচ্ছে করলেই এ চরে এসে ঘুরে যেতে পারেন।

তাড়ুয়ায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। ছবি: প্রতিনিধি

তাড়ুয়া ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল: এই ঢালচরের ৩১.৩১ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ২৮.২০ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে সুবিশাল বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে তাড়ুয়ার বন অন্যতম। এই তাড়ুয়া বনে রয়েছে গেওয়া, গড়ান, কেওড়া, বাইন, রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। শীত এলেই এখানে দেখা মিলবে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির।

এখানে পরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। কোনো হিংস্র পশুর ভয় না থাকলেও বনে রয়েছে শিয়াল, বন বিড়াল, হরিণ, সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণি। এই বাগানের মধ্যেদিয়ে বয়ে যাওয়া সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু ভেতরে প্রবেশ করলেই মনে হবে এ যেন আরেক ভূবন। সেখানে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিশাল এক খণ্ড শীতল ছাঁয়া বিশিষ্ট মাঠ। স্থানীয়ভাবে জায়গাটা বরইতলা নামে পরিচিত।

তাড়ুয়ার চরের সৌন্দর্য। ছবি: প্রতিনিধি

তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকত: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। সেই বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা তাড়ুয়ার সাদা বালির বিশাল সমুদ্র সৈকতে দেখা মিলবে নোনা পানির ঢেউ। সেখানে সাদা বালি আর নোনা পানিনে স্বাদ মিলবে কক্সবাজার অথবা কুয়াকাটা সৈকতের। পাশাপাশি সৈকতে দেখা মিলবে লাল কাকড়ার। বালির ওপর ছোট ছোট পা দিয়ে দৌড়ে চলে এসব লাল কাঁকড়ার দল। মানুষের অবস্থান টের পেলে এরা চোখের নিমিষেই লুকিয়ে পড়ে বালির গর্তে।

দেখা মিলবে লাল কাঁকড়ার​। ছবি: প্রতিনিধি

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: দিনের প্রথম প্রহরে তাড়ুয়া সৈকতে দাঁড়ালে দেখা যাবে সমুদ্র থেকে ভেসে ওঠা লাল টকটকে সূর্য সিঁড়ি বেয়ে একপা দুপা করে আকাশের পথে যাচ্ছে। আবার সন্ধ্যায় দেখা মিলবে সমুদ্রের ঢেউ, সেই সূর্যের মিশে যাওয়ার দৃশ্য।

আছে বিনোদন কেন্দ্র। ছবি: প্রতিনিধি

বিনোদন কেন্দ্র: এই সমুদ্র সৈকতের পাশে রয়েছে বিশাল তাড়ুয়া বন। বনের ভেতরেই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শীতল ছায়াবেষ্টিত মাঠ। সেখানে সুটিং হয়েছে একাধিক বাংলা ছায়াছবির দৃশ্য। এই চরেই বাংলা ছায়াছবি 'অনেক সাধের ময়না'র বাসর ঘর ও কয়েকটি গানের দৃশ্যের চিত্রায়ন হয়।

ছবি: প্রতিনিধি

পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে সম্প্রতি তারুয়া বীচে তৈরি করা হয়েছে ২৩০ ফুট লম্বা একটি কাঠের ল্যান্ডিং স্টেশন। এছাড়া বালির সাদা বীচে বিশ্যান নিতে নিতে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বসানো হয়েছে চেয়ার ও ছাতা। এছাড়া কম সময়ে সহজে যাতায়তের জন্য রয়েছে স্পিডবোট সার্ভিস।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত