ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৫৭

প্রিন্ট

গৃহহীনদের ঘর পাওয়া সাবেক এমপি চান মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

গৃহহীনদের ঘর পাওয়া সাবেক এমপি চান মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
এনামুল হক জজ মিয়া। ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

জীবনের শেষপ্রান্তে এসে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি চান দুইবারের সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়া (৮০)।

জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিত মেয়ে নাজুকে ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন এনামুল হক জজ। পরে ১৯৮৩ ও ১৯৮৬ সালে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে দু’বার সংসদ সদস্য হন তিনি।

নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সাবেক সাংসদ এনামুল হক বলেন, আমি ক্ষমতায় ছিলাম, কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। আমি তখন ইচ্ছা করলেই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিতে পারতাম, কিন্তু নিইনি। আমি কোনোদিন ভাবতেও পারিনি শেষ বয়সে এসে আমার এমন অবস্থা হবে।

এক সময়ের দাপুটে সংসদ সদস্য এনামুল হক জজ অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করাতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

এনামুল হক জজ মিয়া বিগত এরশাদ সরকারের আমলে প্রায় ৯ বছর গফরগাঁও আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পারিবারিক কারণে টাকা-পয়সা ও সম্পদ নষ্ট করে ফেলেন।

আরও পড়ুন: দুইবারের ‘প্রতাপশালী’ এমপি পেলেন গৃহহীনদের ঘর

বর্তমানে উপজেলার সালটিয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। সাবেক সাংসদ এনামুল হক জজ মিয়া বর্তমান সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি গৃহের আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার জমি ও ঘর প্রদান করা হয় তাকে।

গত শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গৃহ হস্থান্তর অনুষ্ঠানের বর্তমান সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল সাবেক সাংসদ এনামুল হক জজ মিয়াকে জমির দলিলসহ গৃহ হস্তান্তর করেন।

জমিসহ গৃহ পেয়ে সাবেক সাংসদ এনামুল হক জজ মিয়া বলেন, আমার এই দুঃসময়ে জমিসহ ঘর দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সকলের মঙ্গল করুক।

তিনি আরো বলেন, আমার বর্তমান অবস্থার জন্য আমি কাউকে দায়ী করতে চাই না। শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান ছিল, এ দাবি করে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সরকারের কাছে এর স্বীকৃতি চাই।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে সাবেক এমপি এনামুল হক জজ বলেন, আমরা আটজনের একটি দল নিয়ে চলে যাই ভারতের মেঘালয়ে। সেখান থেকে এক মাস পরে ফিরে আসি কিশোরগঞ্জের ফুলতলায়। নির্দেশ আসে হোসেনপুর হয়ে নদী পেরিয়ে গফরগাঁও অপারেশনের। একটি বাজারের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কখনো রাস্তায় কখনো বাড়িঘরের ভেতর দিয়ে যাই। গন্তব্য কালীবাড়ির (বর্তমান গফরগাঁও ইমামবাড়ি) কাছে একটি পাট ক্ষেত। সেখানে এসএলআর বিনিময় হবে বিকেল ৪টায়। সময়মতো চলে আসি হোসেনপুর হয়ে নদী পেরিয়ে। হেঁটে চলে আসি গন্তব্যে।

তিনি বলেন, হঠাৎ দেখি ১০-১২ বছরের একটি ছেলে আমাকে ইশারায় ডাকছে। কাছে গেলাম। একটি চিরকুট হাতে দিয়ে ছেলেটি উধাও। লেখা ছিল তাড়াতাড়ি কেটে পড়ো। সমস্যা আছে। নতুন জায়গার কথা লেখা ছিল চিরকুটে। সেখানে পরদিন সন্ধ্যায় যেতে হবে। হঠাৎ পাক বাহিনীর উপস্থিতি টের পাই। পালাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়লাম। যখন জ্ঞান ফিরল, দেখি আমি গফরগাঁও ডাকবাংলোর আমগাছে ঝুলে আছি। হঠাৎ কানে ভেসে এলো এটা মৌলানা সাহেবের লোক। তারপর আমাকে ছেড়ে দেয়া হলো। যিনি আমাকে ছাড়িয়েছেন তার কাছে জীবন বাঁচানোর জন্য আমার পরিবার কৃতজ্ঞতা জানালো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত