ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:০৩

প্রিন্ট

ববি শিক্ষার্থী-বাস শ্রমিকের আন্দোলন প্রত্যাহার

ববি শিক্ষার্থী-বাস শ্রমিকের আন্দোলন প্রত্যাহার
ববি শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় সভা। ছবি: প্রতিনিধি

বরিশাল প্রতিনিধি

অবশেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী এবং নগরীর রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় সভায় দাবি মেনে নেয়ায় উভয় পক্ষ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বুধবার দুপুরে পৌনে ২টায় এ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন উভয় পক্ষ। এর ফলে চলমান অচলাবস্থার নিষ্পত্তি হলো।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় ববি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং নগরীর রূপাতলী হাউজিং এর বাসিন্দারা উপস্থিতে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে ববি’র শিক্ষার্থী ফজলুল হক রাজিব জানান, তাদের (শিক্ষার্থীদের) নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রকৃত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি শতভাগ মেনে নিয়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বস্ত করে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানাই।

সভায় উপস্থিত বরিশাল মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রধান দাবি ছিল যে ২ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং অহেতুক শ্রমিকদের হয়রানি না করা। এ দাবি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

রূপাতলী হাউজিং সোসাইটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী এখন হাউজিং এর মধ্যে মেস করে অবস্থান করছেন। তারা সকলেই ভালো। আমরা চাচ্ছি হাউজিং এর বাসিন্দা, মেসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থী এবং বাস মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে একসাথে চলতে। সমন্বয় সভার মাধ্যমে সেই অবস্থানটা দৃঢ় হলো। আশা করছি শিক্ষার্থী এবং পরিবহন শ্রমিক উভয়ই পক্ষ সহনশীল হবে। যাতে করে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোকতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। এতে করে উভয় পক্ষ তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. প্রফেসর ছাদেকুল আরেফীন বলেন, আন্দোলনরত দুই পক্ষকে নিয়ে ফলপ্রসু সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে উভয় পক্ষই তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরা চাচ্ছি সকলকে নিয়েই ভালোভাবে পথ চলতে।

প্রসঙ্গত, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শ্রমিককে আটক করলে অবরোধ তুলে নেয়। এর জের ধরে ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রূপাতলী হাউজিং এর ভিতর মেসে হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ২০ শিক্ষার্থী আহত হলে ওই রাত থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ১০ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

তিন শর্ত বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা। ওই সময়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মামলায় নামধারী আসামি না করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটামের সময়সীমা ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শেষ হওয়ার পর আবারো মহাসড়ক অবরোধ করে। আড়াই ঘণ্টা অবরোধ শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে ভাষা দিবস উপলক্ষে উভয় পক্ষ আন্দোলন স্থগিত করে। পরবর্তীতে চরমোনাইর মাহফিল উপলক্ষে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এরই মধ্যে সমন্বয় সভায় উভয় পক্ষ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া অচলাবস্থার অবসান হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত