ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৩৮

প্রিন্ট

পাবনার তালিকাভুক্ত একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছা আর নেই

পাবনার তালিকাভুক্ত একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছা আর নেই
বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছা

পাবনা প্রতিনিধি

একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের বাঙ্কারে বাঙ্কারে গুলির বোঝা পৌঁছে দিয়ে ইতিহাস গড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছা মারা গেছেন।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে জেলার সাঁথিয়া উপজেলার তেঁথুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম জামাল আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছার পরিবারের লোকজন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় তেঁথুলিয়া গ্রামে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তেঁথুলিয়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ইউএনও এস. এম জামাল আহমেদ জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানু নেছাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভানু নেছাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছা। ফাইল ছবি

ভানুনেছার যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা প্রতিবেশী নন্দনপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আ. কুদ্দুস এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাঁথিয়ার সাবেক কমান্ডার আ. লতিফ জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছাই ছিলেন পাবনায় তালিকাভুক্ত একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা।

সাঁথিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ জানান, একাত্তরে নন্দনপুরে যখন পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ শুরু হয়, তখন আমরা বাঙ্কারে ছিলাম। এই ভানুনেছা তখন আমাদের অনেকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি কোমরে বেঁধে থানা থেকে গোলাবারুদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করেছিলেন। একবার গুলি লেগে তিনি আহত হয়েছিলেন। সাঁথিয়ার নন্দনপুর ইউনিয়নের তেথুঁলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ভানুনেছার স্বামী আব্দুল প্রামাণিক কয়েক বছর আগে মারা যান। তার ভাতার টাকা দিয়ে অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান হত।

নন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস জানান, ভানুনেছা ছিলেন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। সাঁথিয়া স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত সতীর্থ পুরুষ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রনাঙ্গণে ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের এই অকুতোভয় সৈনিক।

ভানুনেছার বড় ছেলে ইউনুছ আলী জানান, স্ট্রোক হওয়ার পর প্রায় দশ বছর আগে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন তার মা। এরপর গত তিন বছর ধরে একেবারেই শয্যাশায়ী ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে প্যারালাইজড হয়ে যান।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ভানুনেছার মৃত্যুতে মরহুমার পরিবারের প্রতি সমবেদনাসহ শোক জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ দেলোয়ার, সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মাহবুব আলম বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাঁথিয়ার সাবেক কমান্ডার আ. লতিফ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আসিফ শামস রঞ্জন প্রমুখ। তারা ভানুনেছার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত