ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২১, ১৫:৪০

প্রিন্ট

লালদিয়ার ৫২ একর জমিতে উচ্ছেদ চলছে

লালদিয়ার ৫২ একর জমিতে উচ্ছেদ চলছে
ছবি নিজস্ব

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ার চরের ৫২ একর জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। যা বন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান।

সোমবার (১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে এক হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি কাজ করছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক।

সকাল ৭টা থেকে পতেঙ্গার বোট ক্লাবের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিকরা সমবেত হতে থাকেন। গতকাল শনিবার থেকে সেখানে প্রস্তুত ছিল বুলডোজার, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সাঁজোয়া যান।

উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পূর্বে বোট ক্লাব এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, পতেঙ্গার লালদিয়ার চর বন্দরের জায়গা। এখন জায়গাটা আমাদের প্রয়োজন। পিসিটির ব্যাকআপের জন্য। আমরা উদ্বুদ্ধ করেছি যাতে চরের বাসিন্দরা স্বেচ্ছায় চলে যান। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯০ ভাগ চলে গেছেন। বল প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। আমাদের এলাকায় আমরা বেড়া দিয়ে দেবো, যাতে কেউ দখল করতে না পারে।

তিনি বলেন, এর আগে লালদিয়ার চরের ২৬ একর জায়গা উচ্ছেদ করেছি। আমরা আজ ৫২ একর জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারবো। অবৈধ দখল উচ্ছেদ হলে সরকার তৃণমূলদের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকে। তাদের সহায়তা করার জন্য আমরা তালিকা পাঠিয়েছি।

গত শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বন্দর ভবনে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। এতে বন্দরের সদস্য এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুনবার্সনের দাবিতে আন্দোলনরত লালদিয়ার চরের মানুষের পক্ষে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমেদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আসলাম, লালদিয়ার চর পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হাসানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭২ সালে বিমান ঘাঁটি সম্প্রসারণের সময় স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে নিজেদের ভিটামাটি ছেড়ে লালদিয়ার চরে বসতি শুরু করে স্থানীয় কয়েকশ পরিবার। ২ হাজার ৩০০ পরিবারের ১৪ হাজার মানুষ এতদিন সেখানে বসবাস করে আসছিল।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পক্ষে পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ লালদিয়ার চরে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে পুর্নবাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সেখানকার বাসিন্দারা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি লালদিয়ার চর এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত