ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০৭

প্রিন্ট

সাংবাদিক জুলহাস হত্যা

সাংবাদিক জুলহাস হত্যা: পুলিশের চার্জশিট, বাদীর নারাজি

সাংবাদিক জুলহাস হত্যা: পুলিশের চার্জশিট, বাদীর নারাজি
সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ে জুলহাস উদ্দিন (৩৭) নামের এক সাংবাদিককে প্রকাশ্য গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ৫ মাস পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর গত দুইদিন ধরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধামরাইয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা।

এদিকে দুই আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়ায় পুলিশের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী সাংবাদিক জুলহাসের বোন রিনা আক্তার। মামলাটি অন্যত্র তদন্তের জন্য নারাজি দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন চার্জশিট থেকে দুই আসামিকে বাদ দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ মামলা থেকে মালেক ও মামুন নামে দুই আসামিকে বাদ দিয়েছে। তারা দুজনেই কয়েক বছর আগেও আমার ছেলে জুলহাসকে হত্যার করার জন্য ব্যাপক মারধর ও হাঁতুড়িপেটা করে অজ্ঞান করে ফেলে রেখেছিলেন। আর তাদেরকেই মামলা থেকে বাদ দিলেন পুলিশ।

খুন হওয়া সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন ধামরাই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও বেসরকারি চ্যানেল বিজয় টেলিভিশনের ধামরাই প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোড়া গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে। জুলহাসের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে জুলহাসকে গলাকেটে গত্যা করে শাহিন ও তার বন্ধু মোয়াজ্জেম। এ সময় জুলহাস মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তারা জুলহাসের বুকের ওপর উঠে পেটে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তাদের দুজনকেই আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। জুলহাসকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের বোন রিনা আক্তার শাহীন ও মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুজ্জামান, মামুন এবং মালেক নামে ৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সাংবাদিক জুলহাস হত্যার ঘটনার চার্জশিটে পুলিশ কিভাবে আসামি শাহিন ও মালেকের নাম বাদ দিলো তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে বাদী জুলহাসের বোন রিনা আক্তার বলেন, পুলিশ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও তাদের নাম বাদ দিয়েছেন। তাই আমি মামলা নারাজি দিয়েছি চলতি মাসের ১ তারিখে। এখন মামলা পিআইবিতে আছে।

ধামরাই থানা ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের হত্যার সাথে এজাহারভুক্ত আসামি মামুন ও মালেকের সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের দুজনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত