ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ২০:৩৬

প্রিন্ট

মুভমেন্ট পাস কর্মকাণ্ডে ফেসবুকে সরব পুলিশ

মুভমেন্ট পাস কর্মকাণ্ডে ফেসবুকে সরব পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন শুরুর প্রথম দিন বুধবার ও দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন কিছু চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মন্তব্য এবং মূলধারার গণমাধ্যমে এসব মন্তব্য প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি।

বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬ টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে মাঠে রয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, যাতায়াতের সময় যারা আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি, তাদের যাচাই–বাছাই করা হয়েছে।

পুলিশ মনে করে, চলমান বিধিনিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা যৌক্তিক একটি বিষয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো ব্যক্তি পুলিশের নিরাপত্তাচৌকিতে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের নজরে এসেছে।

একটি ঘটনায় দেখা যায়, কারওয়ান বাজারে পুলিশ একজন গাড়িচালকের কাছে তার বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। চালক বলেন, গাড়িটি একজন চিকিৎসকের। কিন্তু চিকিৎসক ওই সময় গাড়িতে ছিলেন না। গাড়িচালককে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হলেও তিনি ব্যর্থ হন। পুলিশ এরপর গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চায়। গাড়ির কাগজপত্রে মালিক হিসেবে যার নাম উল্লেখ আছে, তার সঙ্গে ওই চিকিৎসকের নাম–ঠিকানা মেলেনি। ফলে গাড়িচালকের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, পুলিশের অসদাচরণের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ার পরপরই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো কোনো স্ট্যাটাসদাতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন পুলিশ কর্মকর্তা লিখেছেন, ‌‌ডাক্তার ও পুলিশের মধ্যকার ঐতিহ্যগত সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য একটি মহল সর্বদাই ক্রিয়াশীল। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মহলটি আরো বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট এলাকার একটি ঘটনা সম্পর্কেও পুলিশ ব্যাখ্যা দিয়েছে। ডিএমপি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ওই চিকিৎসক নিজের বাসা থেকে হাসপাতালের দিকে রওনা হওয়ার পর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণিসহ বেশ কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে আটকা পরেন। এতে তার হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল। জাহাঙ্গীর গেটের কাছে নিরাপত্তাচৌকিতেও তিনি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মতো আটকে ছিলেন।

ডিএমপি আরো বলেছে, করোনা মহামারির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা মেনে চলা সব নাগরিকের সমান দায়িত্ব। এসব বিধিনিষেধের বাস্তবায়নে পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ডিএমপি অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো পুলিশ সদস্য যেন কোনো অপেশাদার আচরণ না করেন, সে জন্য সব সময় তার আচার-আচরণ নজরদারিতে রাখা হয়। যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে তাদের উদ্বুদ্ধ করা ও প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ চলছে। ডিএমপি পুলিশের কাজে নাগরিকদের সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) মো. আবদুর রাজ্জাক ফেসবুকে লেখেন,‍ আমার জানামতে, চিকিৎসক বলে পরিচয়দানকারী একজন ব্যক্তি তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে বলেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন অধিক্ষেত্রের জাহাঙ্গীর গেট এলাকার চেকপোস্টে পুলিশ তার গাড়ি থামিয়ে তাকে নাকি অপমান করেছিল। পুলিশ সদস্যরা তার পরিচয় পেয়ে ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে তাকে নাকি ‘কসাই’ বলে গালি দিয়েছিল।

কথিত ডাক্তারের ফেসবুক স্ট্যাটাস মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলেরও নজরে আসে। এ ধরনের অভিযোগগুলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন ও সংশ্লিষ্ট চেকপোস্টগুলোতে কর্তব্য পালনকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তলব করে তাদের কাছ থেকে অভিযোগের বিস্তারিত শোনেন।

সংগত কারণেই ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের অপেশাদার আচরণ আশা করা হয় না। তারপরও ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলেরা পুলিশের বড় কর্তাদের তোপের মুখে পড়েন। তাদের কাছ থেকে সামনাসামনি কৈফিয়ত তলব করা হয়। একই সঙ্গে কথিত কসাই বলে গালি খাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যাটাসদাতা চিকিৎসককে ফোন করে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু স্ট্যাটাসদাতা পুলিশের ফোন ধরেননি।

বিষয়টির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের দায়িত্বশীলেরা জানতে পারেন যে ওই চিকিৎসক তার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চার–চারটি পুলিশ চেকপোস্টের মুখে পড়েছিলেন। সব পুলিশ পোস্টেই তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়, ডাক্তার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে হয়। হয়তো পুলিশের চেকপোস্টে বারবার পড়ে তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন। তাই মনের দুঃখে-ক্ষোভে একটা কিছু লিখে ফেলেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তার এই স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। একজন চিকিৎসক লিখেছেন, সত্যি বলতে কি ভাইয়া, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। আমরা যে পুলিশিং চাই, সেটা এখনো অনেক দূরে। ১৪, ১৫ তারিখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ রকম হয়রানির অনেক ঘটনা ঘটেছে। রিকশা, গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় হাসপাতাল থেকে দূরেও নামিয়ে দেয়ার পর্যন্ত ঘটনা ঘটেছে। এটা ঠিক যে তাদের সবার উচিত ছিল যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ডাক্তার ভাই বা বোনদের কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে বাংলাদেশ পুলিশ কোনোভাবেই বাধা নয়, বরং সহযোগী বন্ধু। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ পুলিশ যৌক্তিক কারণ ছাড়া আপনাকে বাধাগ্রস্ত করছে না। আর যদি বাধাগ্রস্ত করেই ফেলে, তবে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার বা সহকারী কমিশনারকে ফোন দিন (ইন্টারনেটে/ অ্যাপে নম্বর আছে)।

এছাড়াও করোনা মহামারীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ মেনে চলা সকল নাগরিকের সমান দায়িত্ব। এ সমস্ত বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে ডিএমপি অংগীকারাবদ্ধ। কোন পুলিশ সদস্য যাতে কোন অপেশাদার আচরণ না করেন, সে জন্য সর্বদা তাদের আচার আচরণ মনিটর করা হয়ে থাকে এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে তাদের উদ্বুদ্ধ করা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ চলমান আছে। পুলিশের কাজে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য সম্মানিত নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ডিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ এফজেড

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত