ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ১১ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২১, ১৩:৪০

প্রিন্ট

ফরিদপুরের ‘স্বপ্ননগর’ বাসিন্দাদের স্বপ্নের ঈদ

ফরিদপুরের ‘স্বপ্ননগর’ বাসিন্দাদের স্বপ্নের ঈদ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে ৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে নগরের সব সুবিধা নিয়ে ‘স্বপ্ননগর’ নামের বিশেষ একটি আবাসন এলাকা।

যাদের জমি নেই, ঘর নেই এমন পরিবারগুলোর ঠাঁই মিলেছে এলাকাটিতে। তাই জমির সঙ্গে পাকা ঘর পেয়ে নতুন মাত্রায় এবারের ঈদ আনন্দ উপভোগ করবেন নতুন ঠিকানায় ঠাঁই পাওয়া পরিবারগুলো। ভিটা-বাড়িশূন্য মানুষের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলাতে আশ্রায়ন ২ প্রকল্পের অধীনে দু'টি ধাপে মুজিববর্ষের উপহার পেয়েছে ৬০০ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। প্রথম ধাপে ৩২০টি ও দ্বিতীয় ধাপে ২৮০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে এসব উপহার হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০টি ঘরকে কেন্দ্র করে এই 'স্বপ্ননগর' এলাকাটি তৈরি করা হচ্ছে। এ আবাসন এলাকায় গৃহ নির্মাণের পাঁশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে মসজিদ, মন্দির, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, হাট, খেলার মাঠ, ঈদগাহ মাঠ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশুপার্ক, ইকো পার্ক ও সামাজিক বনায়ন। এছাড়াও সকল উপকারভোগীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে সরেজমিনে 'স্বপ্ননগর' এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দু'পাশে সারিবদ্ধ লাল রঙের টিনের সেমিপাকা ঘরগুলো এলাকাকে আরও মহনীয় করে তুলেছে। যেন দৃষ্টি এড়ায়না পথিকদেরও। দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, শৌঁচাগার ও স্টোর রুম।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া স্বপ্নের বাড়িতে ইতিমধ্যে উপকারভোগী যারা উঠেছেন তারা তাদের সন্তানাদি নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ শোভাবর্ধণের জন্য ঘরের আঙিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘরঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরও প্রয়োজনীয় গুদামঘর। শিশুরা খেলাধুলা করছে। নারীরা নিজ নিজ ঘর গোছাতে ব্যস্ত। সবাই খুব উৎফুল্ল, আনন্দিত। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সারাদিন মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করে নিজের বাড়িতে থাকতে পারবে এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দীর্ঘায়ু ও দোয়া কামনা করেন। দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা যায়নি।

স্বপ্ননগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমানের সাথে কথা হয়। এসময় তিনি জানান, 'চিরজীবন অন্যের জমিতে থেকে ঈদ করেছি। প্রায় ৭০ বছর পর নিজের জমি, নিজের ঘরে ঈদ করবো। মৃত্যুর আগে এর থেকে পরম তৃপ্তি আর কি হতে পারে। প্রাণ খুলে দোয়া করি শেখ হাসিনার জন্য।'

নুর জাহান বেগম নামে এক নারী জানান, 'আমার স্বামী ভ্যান চালায়। আমাদের চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে আগে অন্যের বাড়িতে থাকতাম। পরের বাড়ি থাইকে ঈদের আনন্দ করতি পারতাম না। ছেলে-মেয়েরা প্রাণ খুলে হাসতে পারতো না, খেলতে পারতো না। এইবার সরকার আমাগো একটা ঘর দিছে। অনেক আনন্দে নিজের বাড়িতে ঈদ করবো।'

রিবা বেগম নামে আরেক নারী জানান, 'মধুমতি নদীতে ৪ বার বাড়ি ভেঙে গেছে। এরপর অন্যের বাড়ি থাকতাম। নিজের সুন্দর পাকা দালানে বাস করতে পারবো, কোনদিন স্বপ্নও দেহি নাই।'

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী বলেন, 'দ্রুত সময়ের মধ্যে খাস জমি উদ্ধার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পূনর্বাসনের জন্য দৃষ্টিনন্দন একটি করে ঘর তৈরি করে দিতে পেরেছি, এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আশা করি, ঘর পেয়ে এ জনগোষ্ঠির সামাজিক মর্যাদাসহ জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।'

বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত