ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৩৪ মিনিট আগে

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ: ডিবির ৭ সদস্যের সাত বছর করে কারাদণ্ড

  কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৩২

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ: ডিবির ৭ সদস্যের সাত বছর করে কারাদণ্ড
আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্তদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: প্রতিনিধি
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিষ্কৃত সাত সদস্যকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক ৩৬৫ ধারায় ৫ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড দেন। আসামিরা উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করবেন। ফলে সাজা ৭ বছর বলে গণ্য হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, এসআই আবুল কালাম, এসআই নুরুজ্জামান, এসআই গোলাম মোস্তফা, এসআই ফিরোজ আহমেদ, এসআই আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তাফা আজম ও কনস্টেবল আল আমিন। এরা প্রত্যেকে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে বহিষ্কৃত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেয়া হলে পরদিন ভোরে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। চাঁদা আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে চৌকির সেনাসদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।

পিপি ফরিদুল আলম আরও জানান, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তিনি আরও জানান, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায়ের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করেছিলেন বিচারক। আজ এই মামলায় রায় হলো।

মামলার বাদী ব্যবসায়ী আবদুল গফুর জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছেন। রায়ে আমি খুশি। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ডিবির সাত সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি ডিবির সাত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করে। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমটি এখনো চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত