ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা: শোকের মাতম দেশজুড়ে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫, ১০:৪৯  
আপডেট :
 ২৩ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৩

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা: শোকের মাতম দেশজুড়ে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী। প্রাণ হারানোদের কেউ কেউ নিজের পরিবারের একমাত্র সন্তান, কেউ বাবা-মায়ের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ইতোমধ্যে নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সম্পন্ন হয়েছে দাফন। প্রতিটি এলাকায় বইছে শোকের মাতম।

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই রইল আনিশার: বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফাতেমা আক্তার আনিশা (৯) মাইলস্টোনের বাংলা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। বাবার কর্মস্থল কুয়েত থেকে সেই রাতে দেশে ফিরে এসেই জানতে পারেন—তার মেয়ের স্বপ্ন আর কোনোদিন পূরণ হবে না। গতকাল সকালে বাগেরহাটের চিতলমারীর কুনিয়া গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় আনিশার।

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: মাইলস্টোন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝুমঝুমের মা রজনী ইসলাম (৪৫) দুর্ঘটনার পর মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার জানাজা ও দাফন হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামে। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মেয়ে ঝুমঝুম।

লক্ষ্মীপুরে কবর হলো সায়ানের: সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়ান ইউসুফ (১৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাবা-মা দুজনই মাইলস্টোনে শিক্ষকতা করেন। গতকাল লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় মারা যায় পার্বতীনগর ইউনিয়নের আফনান ফায়াজ, যার দাফন হয় ঢাকায়।

শরীয়তপুরে শেষ বিদায় ছামীমকে: ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ ছামীম (১৩)-এর দাফন হয় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের ডিএমখালী গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

টাঙ্গাইলে দাফন মেহেনাজ ও তানবীরের: তৃতীয় শ্রেণির হুমাইরা (৮) এবং অষ্টম শ্রেণির তানবীর আহমেদের (১৪) দাফন হয় টাঙ্গাইলের সখীপুর ও মির্জাপুরে। হুমাইরার বাবা মাইলস্টোনের শিক্ষক। তানবীর ছিল দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।

শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আশুগঞ্জে সমাহিত মাসুকা: প্রাইমারি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষিকা মাসুকা বেগম (নিপু) মৃত্যুর আগে বলেছিলেন—মরলে যেন আশুগঞ্জে বোনের বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, সেখানেই দাফন সম্পন্ন হয়।

নানার কবরের পাশে সামীর: মোহাম্মদ সামীউল করিম সামীর (১১) বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে নানা বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে। তার মা একজন শিক্ষিকা, বাবা উত্তরায় একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন।

গাজীপুরে চিরনিদ্রায় সায়মা: তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সায়মাকে গাজীপুর সিটির বিপ্রবর্থা এলাকায় দাফন করা হয়। বাবা শাহ আলম বলেন, “আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে। এখন সব শেষ।”

প্রতিটি পরিবারে বইছে শোকের ছায়া। শিক্ষাঙ্গনে এখন আর পাঠ নেই, নেই কোলাহল—শুধু অপূর্ণ স্বপ্নের ছাই।

বাংলদেশ জার্নাল/ওএফ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত