ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: টার্গেট ছিলেন বাবু, গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৬

মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: টার্গেট ছিলেন বাবু, গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানতে পেরেছে, ঘটনাচক্রে তার প্রাণ গেলেও নিশানায় ছিলেন যুবদলের এক নেতা। আর তাকে মেরে ফেলতে ২৫ লাখ টাকায় চারজন শুটারকে ভাড়া করেছিলেন তারই রাজনৈতিক সহকর্মী।

সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য শুটারদের ভাড়া করেছিলেন একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। তবে বাবু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।

গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বরের ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অপরাধ জগতে ‘সুপারি দেওয়া’ এমন এক সাংকেতিক শব্দবন্ধ, যা কোনো ব্যক্তিকে হত্যার জন্য পেশাদার খুনি বা চুক্তিভিত্তিক অপরাধীকে ভাড়া করাকে বোঝায়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া চার শুটারকে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে চার সহযোগী ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদ।

ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার; ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও জমি দখল এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২৫ লাখ টাকার চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছিল। ভাড়াটে শুটারদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু অস্ত্রে গুলি ভরার সময় মিসফায়ার হওয়ায় সেদিন হামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। পরদিন রাতে বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল বলেন, ঘটনাস্থলে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান নেওয়া কয়েকজনের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করে। পরে তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে গুলি চালায়। সেই গুলিতে ইউসুফ নিহত হন। এ সময় এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত হন নালাম সরদার ও মনির হোসেন।

হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন অস্ত্রসহ চঞ্চলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, চঞ্চলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবির হাওলাদারকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন, হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

“সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমরা তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করছি। ভিকটিম ও টার্গেট—উভয় পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তে এসেছে। যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় ‘আব্বাস’ ও ‘ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম আসার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে এসব নাম ব্যবহার করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ডিবি বলছে, এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত