ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

যুদ্ধে আটকে ট্রাম্প, বের হওয়ার পথ কোথায়?

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৩

যুদ্ধে আটকে ট্রাম্প, বের হওয়ার পথ কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কী করবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা যায় না; আর এই স্বভাব নিয়ে তিনি প্রায়ই গর্ব করেন। তার ভাষায়, এ বিষয়টি শত্রু-মিত্র সবাইকে একই ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে।

ট্রাম্প ১৩ মাস আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার সিদ্ধান্ত। গত জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনতে কমান্ডো পাঠান।

তার ভাষ্য, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তিনি কতটা বেপরোয়া হতে পারেন। তার পূর্বসূরিরা কেউ এমন কাজ করার সাহসও করতেন না।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে তিনি কেবল নিজের 'নিজের বিবেকর কাছে’ দায়বদ্ধ।

কিন্তু ইদানিং তাকে ফাঁদে আটকে পড়া এক নেতার মত মনে হচ্ছে, যিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না, ধীরে ধীরে সেই যুদ্ধ তার প্রেসিডেন্সিকে গ্রাস করছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দ্রুত বন্ধ করা এবং দেশটির সরকার উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প। তখন তিনি সম্ভবত কল্পনাও করতে পারেননি যে তার ক্ষমতারও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, পাঁচ মাস পর, সেই লক্ষ্যগুলো ট্রাম্পের অধরাই রয়ে গেছে।

একসময় তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে ইরানে তিনি ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ বাস্তবায়ন করতে পারবেন। মানে সেখানকার সরকার পাল্টে মার্কিনপন্থি সরকার বসাতে পারবেন।

কিন্তু এখন তিনি আবার বড় যুদ্ধ শুরু করতে ইতস্তত করছেন; কারণ তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, তেহরানে ওই কৌশল কাজ করবে না।

তেলের দাম চড়ছে, শেয়ারবাজার পড়ছে—এগুলো তিনি থামাতে পারছেন না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে; মাঝে কিছুদিন চালু ছিল, এখন আবার কমে গেছে।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে আরেকটি সংকীর্ণ পথও এখন হুমকির মুখে। ট্রাম্প যদিও হুমকি দিয়েছিলেন যে তিনি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করবেন অথবা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার দখল করে নেবেন, তবে প্রকাশ্যে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।

তার সহযোগীদের মতে, এই ব্যর্থতাগুলো ট্রাম্পকে ক্রমশ হতাশ করে তুলেছে; তার স্বভাবসুলভ আচরণকে আরও খামখেয়ালি করে তুলছে।

বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহেই সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী। কিন্তু ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নিজে সেই চুক্তি উল্টে দেন।

ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব যতক্ষণ না ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আসছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত ওই চুক্তি অকার্যকর থাকবে।

১৮ মাসের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা ওই চুক্তি এভাবে ভেস্তে যেতে দেখে সৌদিরা একেবারে হতবাক হয়ে যায়।

পশ্চিম এশিয়ার বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প আবারও সৌদিদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুশি করেছেন।

“ইরানকে তিনি এই শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা বোকামি, কারণ তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবেই।”

পরদিন সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে জনপ্রিয় এক হকি তারকার নামে এই সেতুটির নামকরণ করা হছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ধরনের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা তার প্রথম মেয়াদে করা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির লঙ্ঘন বলেই মনে করা হচ্ছে।

এ অবস্থায়, গর্ডি হাও সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমেরিকানদের আমন্ত্রণপত্র যে কানাডা প্রত্যাহার করে নেবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সোমবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, রাগ বা হতাশা থেকে ট্রাম্পের এ ধরনের খামখেয়ালি আচরণ তার দলকেও সামলাতে হচ্ছে।

একটি বিরল দ্বিদলীয় আবাসন বিল স্বাক্ষরের জন্য রিপাবলিকানরা ক্যাপিটল ভবনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউজও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল।

কিন্তু সবাইকে হতবাক করে বেঁকে বসেন ট্রাম্প; ওই বিলে সই করতে অস্বীকার করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘‘তার একমাত্র অগ্রাধিকার হল 'সেইভ আমেরিকা অ্যাক্ট', যা মূলত ভোটাধিকার আইন পরিবর্তনের একটি চেষ্টা। সেই আইনের পক্ষে রিপাবলিকানদের যথেষ্ট সমর্থন ছিল না।’’

শেষ পর্যন্ত ক্যাপিটল হিলের অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। ট্রাম্পের সই ছাড়াই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এর ফলে নতুন বাড়ির মালিকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসা এই পদক্ষেপের কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ হারায় তার দল।

ইরানে হামলার সময় ট্রাম্প ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে, তিনি বড় বিপদ ডেকে আনতে চলেছেন। ছবি: রয়টার্সইরানে হামলার সময় ট্রাম্প ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে, তিনি বড় বিপদ ডেকে আনতে চলেছেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্টের কাছের লোকেরা বলছেন, ‘‘ট্রাম্পের এই হতাশার পুরোটাই যে যুদ্ধ থেকে আসছে তা নয়, তবে এর বড় অংশই যুদ্ধের কারণে।’’

ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকাকে সমর্থন করেছেন।

যখন মিত্ররাই এ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তখন যে কোনো মূল্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প নিজেকে আরও চাপে ফেলছেন।

স্পিকার মাইক জনসন গত সপ্তাহে বলেন, “আমাদের এটা শেষ করতে হবে।” ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর সমর্থকদের কাছ থেকেও এখন এমন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্টের কাছে তার লক্ষ্য অর্জনের স্পষ্ট কোনো পথ নেই। জয়ী হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে জড়ানোর পর, এখন তিনি সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।

এক মাস আগেও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে জয়ের পথ তিনি পেয়ে গেছেন। গত ১৭ জুন তিনি ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে তাড়াহুড়ো করে ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৯১৯ সালে সেখানেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছিল।

সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের একদল ‘যুক্তিবাদী’ নেতা এখন বুঝতে পারছেন, কীসে তাদের অর্থনীতির লাভ হবে।

১৪ জুন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, তারা যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, তার ব্যাপক হামলার হুমকির কারণেই ইরান পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

“আমরা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আর তারা বলল, ‘দয়া করে এটা করবেন না, আমরা চুক্তি করব।’ আর ঠিক তার পরপরই আমরা চুক্তি করলাম,” বলেছিলেন ট্রাম্প।

কিন্তু সেই চুক্তি টিকে ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যে ইরানি নেতারা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তারা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হয়। যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, আইআরজিসি সেসব জাহাজের ওপর গুলি চালায়।

ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরানি নেতারা চান—বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা হোক এবং তেল রপ্তানি আবার চালু হোক। কিন্তু আইআরজিসি মনে হয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দেখাতেই বেশি আগ্রহী।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ আছে—আরও সামরিক হামলা চালানো, আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, অথবা বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে সরে আসা।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে এই তিনটি বিকল্প নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

তবে প্রতিটি পথই ভিন্ন ভিন্ন কারণে কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

গত সপ্তাহে পুরোটা সময় ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও শুক্রবার সেখান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের সহযোগীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বা ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করলেই যে তারা আবার আলোচনায় ফিরবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং সেটা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে।

ট্রাম্পকে জানানো হয়, এ ধরনের হামলায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অথচ একসময় তিনিই ইরানিদেরই তাদের সরকারের হাত থেকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ওভাল অফিসে শুক্রবার যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করতে দ্বিধা বোধ করছেন কি না, কারণ সেটি যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।

জবাবে তিনি বলেন, “আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেব না।”

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্পের দ্বিধান্বিত হওয়ার আসল কারণ হতে পারে এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুদ হয়ত ফুরিয়ে আসছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ গত এপ্রিলে এক মূল্যায়নে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টরের মজুদ হয়তো এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে।

চলতি মাসে টানা ১৩ রাত ধরে চলা হামলা ও পাল্টা হামলার পর, কিছু কর্মকর্তার মতে, সেই মজুদ এখন আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে এসেছে। আর এটাই ট্রাম্পকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান থেকে বিরত রেখেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এখন চিন্তিত যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাটতির সুযোগ নিতে পারেন।

পুতিন ইউক্রেইন ও ইউরোপে এবং শি জিনপিং তাইওয়ানে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখতে পারেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিকল্প হল, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হতে দেওয়া। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচলে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে তেল রপ্তানির ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে সময় লাগে। ওবামার সময়ে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে বেরিয়ে এসে ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আট বছর পর ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে আছে একজন নতুন নেতার নেতৃত্বে, যিনি গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর বিষয়ে আবারো উদ্যোগী হতে পারেন।

অবরোধের কৌশল হয়তো কাজে দেবে, কিন্তু সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে, যা অনেক ব্যয়বহুল। আর মাঝেমধ্যে গোলাগুলি হবে, যা মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বাড়াবে; মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা হতে পারে।

তৃতীয় পথ হল নিজের বিজয় ঘোষণা করে ফিরে আসা। ট্রাম্প এক মাস আগে সেটাই করতে চেয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধবিরতি বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি অর্থনৈতিক মন্দা চাননি, যেটা হার্বার্ট হুভারের সময়ে হয়েছিল।

৩১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুভারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি কখনোই তার মত হতে চাইনি। আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি। যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বে তেলের মজুত ফুরিয়ে যেত।”

কিন্তু সেই প্রস্থানের জন্যও ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে। তিনি যদি ইরানে বোমা তৈরির উপযোগী ইউরোনিয়াম রেখে চলে আসেন এবং হরমুজ প্রণালি ইরানের হাতে ছেড়ে দেন, তাহলে যে কারণে তিনি আক্রমণের সূচনা করেছিলেন, তার সমাধান করতে তিনি ব্যর্থ হবেন এবং জ্বালানি বাজারের জন্য একটি নতুন বড় সমস্যা তৈরি করবেন।

এটা তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আর এটা প্রমাণ করবে যে, তার ক্ষমতারও সীমা আছে, যা তিনি জানুয়ারিতে ভাবতেও পারেননি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত