এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৭:৫৯

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ বিষয়ে এক নীতি সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। সরকার আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বর্তমান ও নতুন মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তাদের সবার জন্য একই ধরনের জব ডেসক্রিপশন এবং অ্যাসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ নিশ্চিত করা হবে, যাতে সেবার মান একরূপ হয়।
মুহিত বলেন, এখন থেকে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। একই বাড়িতে তিনবার আলাদা আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই কাভারেজ গ্যাপ আর থাকবে না।
তিনি বলেন, এখন দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বাড়াতে পারলে এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। তাতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সরকার সেই সম্পদ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, স্বাস্থ্য খাতে অদক্ষতা এবং সময়মত প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারার বিষয়টি ‘অর্থের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘রিয়েল টাইম ডেটা’ সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেনের সাভরিজ এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে।
অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, সুইডিশ দূতাবাসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, জনসংখ্যা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুর রব, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা ডা. ইয়াসমিন এইচ আহমেদ, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও সিনিয়র পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










