কচুয়ায় এক পরিবারকে ‘সমাজচ্যুত’ করার হুমকির অভিযোগ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ২০:০৯ আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ২০:৩৪

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আটোমোর গ্রামে এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সংঘবদ্ধভাবে হয়রানি, সামাজিকভাবে একঘরে করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোরবানির মাংস সমাজনেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাদের এ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিজেদের সমাজপতি বা মাতব্বর হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি গ্রামে দলবদ্ধ জনতা তৈরি করে ভিন্নমত পোষণকারী পরিবারগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। অভিযুক্তরা হলেন- আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খুরশিদ, সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন আহমেদ ওরপে রিয়াদসহ শামসুল আলম, বিল্লাল ও হারুন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গালিব বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আমার কোরবানির মাংসের একটি অংশ সমাজের গরীর অসহায় মানুষের মাঝে বিরতণ করি। কিন্তু মাংস কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে বিতরণে অস্বীকৃতি জানালেই ঘটে বিপত্তি।
তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে মাংস বণ্টনে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় না। তাই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাংস বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অপপ্রচার, সামাজিক চাপ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন। আমাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, জানাজা আয়োজন করতে না দেওয়া এবং পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবারকেও একই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গালিব আরও জানান, গ্রামবাসীর মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি করে অভিযুক্তরা আমাদের সমাজবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা মহল্লায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনানুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সামাজিক বয়কট, অপমান, ধর্মীয় অধিকার সীমিত করা এবং দলবদ্ধ চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও অভিযুক্তরা মসজিদের পুকুর এবং অন্যান্য দাতব্য সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন। মসজিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইমাম নিয়োগ ও অপসারণ, পুকুর ব্যবহার এবং আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মুসল্লিদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একাধিক ইমামও তাদের একতরফা সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা মতিন প্রায় ২০ বছর ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, যথাযথ নোটিশ, তদন্ত বা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পৃথক তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ অস্বিকার করে আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খুরশিদ জানান, এমন কিছু ঘটেনি, আমরা মিলেমিশে চলতে চাই।
মসজিদের সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন আহমেদ ওরপে রিয়াদ বলেন, বহু বছর ধরে আমাদের এখানে সমাজের কোরবানির মাংস একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। ওই পরিবার নিজেরা মাংস বিতরণ করাতে নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছিল, তাই তাদের বিষয়টি বুঝিয়েছি। কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। শরিয়া অনুযায়ী যে কেউ তার মতো করে কোরবানির মাংস বিতরণ করতে পারেন।
কচুয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










