পুশইনের আরও ৮ চেষ্টা রুখে দেওয়ার দাবি বিজিবির
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১৩:০৫

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘পুশইনের ৮টি চেষ্টা’ ঠেকানোর দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। শনিবার (৬ জুন) সকালে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যেসব এলাকায় পুশইনের চেষ্টা রুখে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিজিবি, তার মধ্যে রয়েছে—
# ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন যাদবপুর সীমান্তে ৩ জনের প্রবেশের চেষ্টার সময় বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্যরেখোয় অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। এরপর ওই ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে যায়।
# নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবির টহলদল।
# তিস্তা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়খাতা সীমান্তে ১১ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়েছে বিজিবি। পয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে আরও ১০ জনের পুশইন ঠেকানো হয়েছে।
# লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবি তা রুখে দিয়েছে। দুর্গাপুর সীমান্তে ৪ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে।
# নীলফামারী ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে।
# নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে ‘পুশইনের জন্য জড়ো করা হয়’ বলে জানিয়েছে বিজিবি। তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিদের লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিজিবি বলেছিল তারা ১০টি পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। বাহিনীর ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে তারা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মে মাসের শুরুতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরপরই ‘বিতর্কিত’ নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাউকে বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহ হলেই সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পাশাপাশি ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ফেরত পাঠানোর আগে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘আটক শিবির’ গড়ে তোলা হয়।
রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় রাজ্য ছাড়তে বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্তগুলোতে জড়ো হচ্ছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন, অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া প্রতিহত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা অব্যাহত রাখা হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










