ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ-অপ্রীতিকর’ ঘটনা, ফিরে ‘আসছেন’ তথ্য উপদেষ্টা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৮

দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ-অপ্রীতিকর’ ঘটনা, ফিরে ‘আসছেন’ তথ্য উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দিল্লি বিমানবন্দরে ‘অপ্রীতিকর ঘটনার’ মুখোমুখি হওয়ার পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ‘অসম্মানজনক’ আচরণের প্রতিবাদে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টাকে ঘিরে এমন একটি ঘটনার সংবাদ দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিন।

বেশ কিছু সময় তাকে বিমানবন্দরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলেও উপদেষ্টা জাহেদ তাতে সম্মত হননি বলে ওই খবরে তুলে ধরা হয়।

পরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে মধ্যরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর দিয়েছে।

এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের খবর আসছিল।

উপদেষ্টার ঘণিষ্ঠ সূত্রের বরাতে দৈনিক সমকাল এর অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকেই তিনি অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১টায় উপদেষ্টা দেশের পথে ছিলেন।

ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ যথাযথ না হওয়ায়, উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান বলে ওই খবরে বলা হয়।

তথ্য উপদেষ্টার দেশে ফিরে আসার কথা সূত্রের বরাতে যমুনা টিভির খবরেও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, দিল্লি বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্ায়ে উপদেষ্টা নিজেই পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেন বলে ওই খবরে বলা হয়।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রাতেই কলম্বো হয়ে তার দেশে ফেরার খবর দিয়েছে প্রথম আলো। সোমবার দুপুরের দিকে তার ঢাকার ফেরার কথা রয়েছে।

সমকাল লিখেছে, ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি রোববার ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি ফেরত আসেন।

সোমবার নয়া দিল্লিতে দুই দিনের ওই সম্মেলন হওয়ার সূচি রয়েছে। এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তবে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বেশ কিছু সময় আটকে রেখে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদ করার খবর দিয়েছে নিউজ এইটটিন।

সূত্রে বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ (নজরদারি তালিকা) নাম থাকার কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টা একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে একটি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ভারতে এসেছিলেন। তখন রুটিন তল্লাশির সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার নামটি শনাক্ত করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে আটকে রাখা হয়।

‘যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রবেশের অনুমতি’

নিউজ এইটটিন বলছে, স্পষ্টতই একটি প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম সংক্রান্ত একটি ‘কালো তালিকা’ থেকে জাহেদ উর রহমানের নাম আগেই সরিয়ে ফেলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, তা ইমিগ্রেশনের তালিকায় রয়ে গিয়েছিল। যে কারণে তিনি পৌঁছানোর পরই সতর্কতা তৈরি হয়।

পরে এই অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেন।

বিভিন্ন সংস্থা পরিচালিত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ওয়াচলিস্ট বা লুকআউট নোটিসে কোনো ব্যক্তির নাম থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে বলে খবরে বলা হয়।

তবে এ বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশ কোনো দেশের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি বলে তুলে ধরে নিউজ এইটটিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াচলিস্টে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ডে সেটির থেকে যাওয়ার পেছনের পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত