নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনকে ৩ দিনের আলটিমেটাম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৯:৪২

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনে এসে কর্মচারীদের গরহাজির এবং রান্নাঘর ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে গত চার বছর ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমানকে কড়া ভাষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের নিয়মানুবর্তিতা, উপস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আগামী তিনদিনের মধ্যে সিভিল সার্জন সাহেব যদি নিশ্চিত না করেন, ইউ হ্যাভ টু ফেস দ্য কনসিকোয়েন্সেস (আপনাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে)।’
রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালটিতে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এখান থেকেই তিনি দেশের ১০টি জেলার সদর হাসপাতালে আইসিইউ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধন কার্যক্রমের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এ সময় টয়লেট ও রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র দেখে সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বশীলদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরাখাতা যাচাই করেন। এ সময় কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক (আউটসোর্সিং) কর্মচারীকে অনুপস্থিত পান। এ নিয়েও সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
পরে এসব বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্জন সাহেব, মনে কিছু নেবেন না। উই আর অ্যা টিম (আমরা একটি টিম)। একটা হাসপাতালে মন্ত্রী আসবে, সচিব-ডিজি আসবে; আমি দেখলাম আপনার হাসপাতালের অবস্থা! আই অ্যাম ভেরি সরি টু সে (দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে), বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছি, অন্তত আমার ভয়ে হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছে। কিন্তু আপনি সেটাও করেননি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিভিল সার্জনকে রান্নাঘর থেকে ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তিনদিনের সময় বেঁধে দেন। একইসঙ্গে টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেন।
সিভিল সার্জন নিজেই এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন এবং মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তার পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব মালামাল সেখানে রেখেছেন, অনেক কিছু অপ্রয়োজনীয়। দাহ্য পদার্থ আছে সেখানে, আগুন লাগলে একটা মানুষ বাঁচতে পারবে না। আপনাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, আপনারা অব্যবহৃত জিনিস বিক্রি করে দেন। এই ধরনের কালো পাতিলে রান্না মানুষ খায়? এই রকম পাতিল আপনার ঘরে রাখবেন? এখানে রান্না করে আমাদের মানুষকে খাওয়াবেন? হতে পারে তারা গরীব, কিন্তু আমি আর এটা দেখতে চাই না।’
তিনদিনের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না হলে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনমাস ধৈর্য ধরেছি। চার বছর ধরে আপনি এখানে আছেন। আপনাকে প্রশ্ন করলে আরেকদিকে তাকিয়ে থাকেন, কেন? আপনাকে জানতে হবে সবকিছু। দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীত ভুলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন চান। এই সরকার বরাবরের সরকারের মতো নেই। তাই এই সরকারের সব কর্মচারীদেরও নিজেদেরকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। আমাদের সঙ্গে সচিবালয়ে অফিস করেন।’
দেশে ১ হাজার ৫০০ শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ ও দূর-দূরান্ত থেকে রোগীদের বহনে হেলিকপ্টার-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা নিশ্চিতের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসসেবা নিশ্চিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক হামের টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো নজ্যাল ক্যানুলার মতো জিনিসগুলো তড়িৎ গতিতে না দিতে পারলে হাম মোকাবিলা করতে পারতাম না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু এগুলো কিনিনি। আমাদের টিম ভিক্ষা করেছি প্রাইভেট সেক্টরের কাছে। প্রাইভেট সেক্টর এত বেশি বিশ্বস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যে, তারা দুহাত দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সামনে ডেঙ্গু মোকাবিলা করার জন্য এক লাখ স্যালাইনও দিয়েছেন।’
ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে বলেছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বাকি নয়টি জেলা থেকেও সংশ্লিষ্টরা ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










