কুষ্টিয়ায় নিম্নমানের বীজে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রশ্নের মুখে সরকারি প্রণোদনা
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৬

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজ বপনের পর ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিষ্ঠানটির বীজ ভেজাল ও নিম্নমানের বলে দাবি কৃষকের। তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা পাটবীজ প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। এরপর অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বীজ প্যাকেটজাত করে তা চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এতে পাটবীজ সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম। তবে এতে দায় কার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠ পর্যায়ে আস্থা হারাচ্ছেন চাষিরা। এমন পরিস্থিতে ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
তবে পাটবীজ নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়ার পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বড় স্যারেরা দেখছেন। তবে আমাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।”
সরকারিভাবে কৃষি উপকরণ সরবরাহের সিংহভাগ কার্যক্রম করে থাকে বিএডিসি। কৃষি খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিপুল অর্থও বরাদ্দ হয়ে থাকে বিএডিসির নানাবিধ খাতে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সার বীজ ও সেচ সরবরাহ খাতে বিএডিসি এসব অর্থ ব্যয় করে থাকে।
বিএডিসি পাটবীজ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা কর্মসূচির অনুকূলে ১৮০ টন পাটবীজ ক্রয় ও সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা।
যদিও কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ বিভাগের দাবি, তারা এ বছর ২৮৩ টন পাটবীজ সংগ্রহ করেছেন; যা প্যাকেটজাতের পর বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে তাদের সরবরাহ করা বীজের প্রায় সাড়ে ২৪ টন ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ কর্তৃক বাতিল করে কুষ্টিয়ায় ফেরত পাঠায়।
ফরিদপুর পাটবীজ বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বীজের কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন বা চারা না গজানোয় ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়।
তবে চিঠির অভিযোগ মানতে নারাজ কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মনিরা খাতুন। তার দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিল করছেন।
ওই চিঠি ধরে বিএডিসির এসব বীজের মান নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করা হয়। এতে বীজ ক্রয়, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে নানা অনিয়মসহ ভেজালের তথ্য উঠে আসে। কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত বীজের হাল দেখে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে।
কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলায় অবস্থিত। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে স্তূপ করে রাখা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, প্যাকেট ও প্যাকেটজাত বীজের ভিন্নতা; যা দেখেই বোঝা যায় এখানে আসলে ভালো-মন্দের মিশ্রণ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধান করছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে বিপুল পরিমাণ বীজ গুদামের পিছনে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, আগে থেকে তালিকাভুক্ত চাষিদের নানাবিধ প্রণোদনা, পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে বীজ সরকারি প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত হলে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করার কথা। কিন্তু পাটবীজ গুদামে তা মানা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাংনী উপজেলার এক উদ্যোক্তা পাটবীজ চাষি বলেন, “উনারা বলছেন ২৮৩ টন পাটবীজ ক্রয় করেছেন। কিন্তু বিপুল এ বীজ কোথাকার কোন উদ্যোক্তার কাছে থেকে নিয়েছেন দেখাতে বলেন?
“আমার জানা মতে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ আশপাশের ১০ জেলা কুড়িয়েও ৫০ টন পাটবীজ উৎপাদন করতে পারেননি উদ্যোক্তা চাষিরা। তাহলে এত বীজ কোথা থেকে কোন মানদণ্ডে তারা ক্রয় করেছেন?
“আসলে সিংহভাগ বীজ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা হয়। অসাধু বীজ ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব পাটবীজ সংগ্রহের পর প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। পরে প্যাকেটজাত করে চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।”
কৃষি বিভাগ নিম্নমানের বীজ নতুন করে প্যাকেটে ভরে চাষিদের দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের পাটচাষি আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘‘এবার তিনি পাট চাষের জন্য এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। পরে এই বীজ বপন করার পর আর চারা গজায়নি।
একদিকে আমার একটা বতর (মৌসুম) জমি পাকাল পড়ে থাকল, আবার গাট্যের ট্যেকাও খরচ হইলু। ইর দায় নিবি কিডা? এই বটতৈল ইউনিয়নে যত চাষি সরকারের এই পাটের বেচন (বীজ) বোনেছে, তারা কেউ দেখাতে পারবে না যে চারা গজায়ছে”, বলেন তিনি।
চলতি মৌসুমে বিএডিসি থেকে চাষিদের সরবারহ করা প্রণোদনার পাটবীজের চারা ক্ষেতে গজায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।
মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএডিসির বীজ ভেজালের সঙ্গে বিশাল চক্র জড়িত। কয়জনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এরা বাজারের ব্রান্ডিং কোম্পানির বীজের নমুনা প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পরপর আমদানি করা নিম্নমানের বীজ প্যাকেটজাত করেন।
“এরপর প্রত্যয়ন এজেন্সির নকল ট্যাগ লাগিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে বিএডিসির গুদামের সরবরাহ করেন। সেখান থেকে সারাদেশে এসব বীজ সরবরাহ করা হয়।”
‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, শুধুমাত্র এ বছরই বিএডিসির পাটবীজ নিয়ে এত কথা হচ্ছে তা নয়। গত বছর বিএডিসির পিঁয়াজ বীজ নিয়ে সারা দেশের চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার এককভাবে বিএডিসির উপর বীজের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর যাচ্ছে তাই করেই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিম্নমানের পচা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিল করা বীজ নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে বিপণন ও সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতে কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচিকে শূন্য নামছে। আর প্রতিবছর কৃষি খাতে সরকারের বিপুল অর্থ তসরূপ হচ্ছে।
এ বছর পাটবীজের ঘটনার মধ্যদিয়ে বেড়িয়ে আসা অনিয়ম তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের এই নেতা।
কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “চাষি যাতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পায় এবং বীজ নিয়ে যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সি কাজ করে। বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত পর্যন্ত আমরা নানা বিচ্যুতির ঘটনা পাই।
“সেক্ষেত্রে এজেন্সির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বীজ বিক্রয় ও সরবরাহ সংশ্লিষ্টদের বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকা প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘‘চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাটবীজ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ তদন্ত করা হবে।’’
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় বীজে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষক
বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজে জারমিনেশন বা অঙ্কুরোদগমের মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষকরা।
পাটবীজ ডিলাররা বলছেন, ‘‘মেহেরপুরের চিৎলা পাটবীজ খামারের বীজে জারমিনেশন মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় বীজের চাহিদা বেড়েছে।’’
তবে প্রণোদনার পাটবীজে জারমিনেশন মাত্রা একটু কম থাকলেও কৃষক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর।
দেশের সবচেয়ে বড় পাটবীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান চিৎলা পাটবীজ খামার। প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমির উপর গড়ে তোলা এ খামার থেকে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ পাটবীজের চাহিদা মেটানো হয়। গুনে মানে ভাল হওয়ায় এ খামারের বীজের চাহিদাও ছিল বেশ।
সম্প্রতি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বীজ উৎপাদন এবং বীজের গুণগত মান রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় চাষিরা ভারতীয় বীজের দিকে ঝুঁকছেন। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিও তাদের সুনাম হারাচ্ছে। খামার অভ্যন্তরে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর লোকসান গুণছে সরকার।
এ জেলায় ধানের পরই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল পাট। বাজারে দাম ভালো থাকার কারণে এবার জেলায় পাটের উৎপাদনও বেশি। কিন্তু দেশি বীজের মন্দাবস্তার কারণে চাষিরা এবার চড়া দামে ভারতীয় পাটবীজ কিনেছেন। তাহলে ভাল মানের পাটবীজ সরবরাহকারী সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কাজ কি?
একই প্রশ্নে বারাদী গ্রামের পাটচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। দেশি বীজ ভাল না হওয়ায় ভারতের শঙ্কর জাতের বীজ কিনে বপন করেছেন তিনি। এবার পাটের মণ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।’’
প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট হবে। বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার খরচের পরও এবার পাটে ভালোই লাভ হবে। এ ছাড়া পাটকাঠির চাহিদা বাড়ার কারণে শুধু পাটকাঠি বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে যায়।
তিনি বলেন, “দেশি পাটবীজ লাগানো গেলে উৎপাদন আরও বেশি হত। কিন্তু চিৎলা পাটবীজ খামার থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালোমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষককে ভাল বীজ সহায়তা দিতে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো কাজে আসছে না।”
মেহেরপুরের পাটবীজ ব্যবসায়ী ‘চৌগাছা পাটবীজ ভাণ্ডারের’ মালিক হাসান আলী বলেন, “এবার সরকারি পাটবীজ ভালো হবে ভেবে পাঁচ টন বীজ কেনার জন্য পে-অর্ডার করার পর তা আবার ফেরৎ নিয়েছি। পে-অর্ডার করার পর চিৎলা পাটবীজ খামারের একজন কর্মকর্তা জানালেন এবার বীজে জারমিনেশন কম ধরা পড়েছে।
এই বীজ নিলে এবারও অঙ্কুরোদম কম হবে। চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেটা জানার পর আট টন ভারতীয় শঙ্কর, চক্র, এনএসসি জাতের পাটবীজ কিনি। সরকারি পাটবীজের বাজার এভাবেই নষ্ট হচ্ছে।”
অপর পাটবীজ ডিলার ‘আরমান ট্রেডার্সের’ মালিক আরমান আলী বলেন, “একসময় চিৎলা পাটবীজের খুবই সুখ্যাতি ছিল। তখন ভারতীয় বীজ এ অঞ্চলে বিক্রি হত না। চলতি মৌসুমে ১০ টন চিৎলা বীজ খামারের সবুজ সোনা ও তুষা জাতের বীজ কিনেছেন।
“সেইসঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন জাতের বীজ কিনেছি ২০ টন। শুনেছি, এবার কৃষককে বিনামূল্যে দেওয়া চিৎলার প্রণোদনার বীজের মান খারাপ। জারমিনেশন কম থাকায় কৃষক সেই বীজ বপন করে ঠকেছেন। অনেক কৃষক সেই বীজ না লাগিয়ে ভারতীয় বীজ কিনে লাগিয়েছেন।”
প্রণোদনার বীজে জারমিনেশন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জোরালো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর বলেন, “প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম বীজ লাগে। কৃষককে চাহিদামতো বীজ দেওয়া হয়।
“প্রতিবার বীজের পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ১২ কেজি সার এবং কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তবে এবার বীজ ছাড়া কৃষককে কোনও সাপোর্ট দেওয়া হয়নি।”
প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল অভিযোগ নেই চুয়াডাঙ্গায়
চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল কোনও অভিযোগ নেই। তবে কোথাও কোথাও চারা না গজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষকরা বলেছেন, ‘‘বীজ থেকে ঠিকমত চারা গজিয়েছে। তবে ভূট্টা কেটে চাষ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও নাবি হয়ে গেছে। কোনো কোনো কৃষক বলেছেন, চারা ভাল হয়েছে, পাটের গুণগত মান কেমন হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।’’
সদর উপজেলার কাথুলি গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বিএডিসির প্রণোদনার বীজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “ভূট্টা কেটে নিয়ে সেই জমিতে পাট চাষ করেছি। মে মাসের প্রথম দিকে পাট চাষ করি। কিছুটা নাবি হয়ে গেছে। সামান্য ফলন বিঘ্নিত হতে পারে।“
একই গ্রামের নাজমুলও পেয়েছেন প্রণোদনার বীজ। তিনি বলেন, ‘‘চারা গজিয়েছে, কোনও সমস্যা হয়নি।’’
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এ জেলায় দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে পাট চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করবেন, সেই হিসেবেই বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া।
এর মধ্যে সদরে ৩০০, আলমডাঙ্গায় ৬০০, দামুড়হুদায় ৮০০ ও জীবননগরে ৫০০ কৃষককে পাটচাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির বীজ বিপণন শাখার স্টোর কিপার মোহাম্মদ ওয়ালিদ বলেন, “প্রণোদনার জন্য পাটের বীজ আমাদের কাছে এসেছিল কুষ্টিয়া থেকে। দুই হাজার ২০০ কৃষককে দেওয়ার জন্য আমরা তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সরবরাহ করি।”
একই দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, বীজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ যাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘‘প্রণোদনার পাটবীজ পাওয়ার পর আমরা জার্মিনেশন পরীক্ষা করেছিলাম। তারপর তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোনও সমস্যা হয়নি। বরং দেশের অন্য অনেক জেলার চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষ আগে হওয়ায় ফলন ভাল হবে। কৃষকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি।”
বিএডিসির পাটবীজে দেশের কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, “সব লটে সমস্যা না-ও হতে পারে। তবে চুয়াডাঙ্গার লট ভাল ছিল।”
সূত্র: বিডি নিউজ
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম











