ঢাকা, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

বিশ্বকাপে কাতারের ইতিহাস, খোখির শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজদের জয় হাতছাড়া

  ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪  
আপডেট :
 ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৫

বিশ্বকাপে কাতারের ইতিহাস, খোখির শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজদের জয় হাতছাড়া
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচজুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল সুইজারল্যান্ড। জয়ের পথেই ছিল তারা। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল চিত্র। বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থেকেও হারের মুখ থেকে স্মরণীয় এক পয়েন্ট তুলে নেয় কাতার।

স্যান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে শনিবার ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।

প্রথমার্ধে ব্রিল এমবোলোর সফল পেনাল্টি শটে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে অধিনায়ক বুয়ালাম খোখির হেডে সমতায় ফেরে কাতার।

বিশ্বকাপে এটি কাতারের দ্বিতীয় গোল এবং প্রথম পয়েন্ট। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেললেও তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল তারা। সেবার একটিমাত্র গোল করেছিল কাতার।

অন্যদিকে নিজেদের টানা সপ্তম বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখল সুইজারল্যান্ড। এই সময়ে তাদের অর্জন তিনটি জয় ও চারটি ড্র। তবে জয়ের এত কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে দুই পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপ থেকে গেল সুইসদের।

পুরো ম্যাচে ৬৮ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল সুইজারল্যান্ডের। গোলের উদ্দেশ্যে তারা ২৬টি শট নেয়, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। কাতার সাতটি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থেকে বিশ্বকাপে আসা কাতারই ম্যাচের প্রথম সুযোগ তৈরি করে। সুইস রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এডমিলসন জুনিয়র। তবে তার দুর্বল শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।

ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন এনদোয়ে। কিন্তু দারুণ সেভে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। চার মিনিট পর আরেকটি সুযোগ পেলেও পেনাল্টি এলাকার ভেতর থেকে বল উড়িয়ে মারেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সুইজারল্যান্ড। ১৭তম মিনিটে রেমো ফ্রয়লারকে বক্সের ভেতর কাতারের গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো।

কামেরুনে জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সুইজারল্যান্ডের জার্সিতে এটি ২৫তম গোল।

২১তম মিনিটে দেনিস সাকারিয়ার শটও ঠেকিয়ে দেন আবুনাদা। ৩৬তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি।

আক্রমণে সুইজারল্যান্ডের দাপটের মাঝেই ৪৩তম মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পায় কাতার। এডমিলসন জুনিয়রের কোনাকুনি শট পা দিয়ে রুখে দেন কোবেল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর টানা তিনটি ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। দুটি শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আবুনাদা, আর একটি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন কাতারের এক ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণাত্মক ছিল সুইসরা। ৫০তম মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

এরপর খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। ৭৫তম মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম লক্ষ্যে শট নেয় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে রুবেন ভার্গাসের শট ঠেকিয়ে দেন আবুনাদা। কয়েক সেকেন্ড পর এমবোলোর শট পাশের জালে লাগে।

দ্বিতীয়ার্ধে কাতারের উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার নেওয়া শট সহজেই তালুবন্দি করেন কোবেল।

সবকিছুই যখন সুইজারল্যান্ডের জয়ের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তখনই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম দেয় কাতার। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের উড়ন্ত ক্রসে ছয় গজ বক্সের সামনে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের ওপর লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক বুয়ালাম খোখি। শেষ মুহূর্তের সেই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা কাতার শিবির।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত