বাজেটকে বিনিয়োগের পরিপন্থি বললেন এনসিপির এমপি আখতার
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২০:৪১

বিএনপি সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশাল অঙ্কের যে বাজেট দিয়েছে, সেখানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এমপি আখতার হোসেন।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বৃহস্পতিবার আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এই বাজেট ‘বড় ঘাটতির বাজেটে’ পরিণত হতে পারে।
আখতার বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে এনবিআর ৪ লাখ কোটি টাকাই আদায় করতে পারে না, সে এনবিআরের ওপর যদি ৬ লাখ কোটি টাকার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং যদি তৃপ্তির ঢেকুর তোলা হয় যে আমাদের ঘাটতি কম আছে, তাহলে সেটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
“এখনই ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি আছে। এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। এই যে বাজেট, এটা শুধু বড় বাজেট না; এটা বড় একটা ঘাটতির বাজেটে পরিণত হয়েছে।”
সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার মত ঋণ নিতে চায় মন্তব্য করে রংপুর-৪ আসনের এ এমপি বলেন, “এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। সরকার যদি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ হবে না। প্রাইভেট সেক্টরে লোন ডিসবার্স হবে না। যার কারণে অর্থনীতি একটা স্থবির অবস্থায় এসে দাঁড়াবে।”
এর ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমবে বলে মনে করেন তিনি।
আখতার বলেন, “যে বাজেটকে বলা হচ্ছে বিনিয়োগবান্ধব বাজেট, সেই বাজেটের মধ্যেই ‘ক্রাউডিং ইফেক্ট’ (সরকারি অতিরিক্ত ব্যয় বা হস্তক্ষেপের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ বা ব্যয় কমে যাওয়া) তৈরি করার মত পদ্ধতি রেখে ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ সরকার নিয়ে যাবে।
“এ কারণে এই বাজেটটা বিনিয়োগবান্ধব নয়, বিনিয়োগের পরিপন্থি বাজেটে পরিণত হয়েছে।”
ব্যাংক খাতে ‘অরাজকতা’ চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক নিয়েও সংকট আছে। আগের মালিকদের অনিয়মে এসব ব্যাংক দেউলিয়ার পর্যায়ে গেছে। অথচ ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে তাদের আবার মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
“ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকের মালিকেরা সাড়ে ৭ শতাংশ টাকা ফেরত দিতে পারলে তাদের কাছে আবার ব্যাংকের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হবে’। যেসব মালিকেরা এই ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করেছে, টাকা পাচার করেছে, এই ব্যাংকগুলো থেকে লুটপাট করেছে, সেই মালিকগুলোর কাছেই মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ টাকা ব্যাক দেওয়ার কথা বলে আবারো সেই মালিকদের কাছেই ব্যাংকগুলোকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ফায়দা কী হতে পারে?”
মধ্যবিত্তের ওপর আয়কর বাড়ানোর অভিযোগ তুলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অগ্রিম কর, কৃষিতে বরাদ্দ, শিক্ষা বাজেট ও এডিপির থোক বরাদ্দ নিয়েও সংসদে কথা বলেন আখতার।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










