ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি  চিকিৎসা যন্ত্রপাতি যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৬

‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি  চিকিৎসা যন্ত্রপাতি যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় ‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি করা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষা বাংকার’ (রেডিয়েশন বাংকার) তৈরি না করেই খুলনা ও ফরিদপুরের জন্য ১৮ কোটি টাকা করে দুটি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। সেগুলো এখন পড়ে আছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। সেখানে ৬৮টি পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও নারী চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নিয়োগ না হওয়া, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ উপেক্ষার কারণে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার কথা বলতে এক ঘণ্টা সময় পেলেও শেষ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে এক্সরে মেশিন পাঠানো হলেও সেগুলো চালানোর মানুষ নেই। একইভাবে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছু পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুযোগ দিতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করায় সেগুলো নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে।

কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।

তবে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না।

দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জনবল রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত