শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সদিচ্ছা প্রয়োজন: শামা ওবায়েদ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:১৫

জুলাই অভ্যুত্থান দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দিল্লিতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে ভারত সরকারের ‘সদিচ্ছা’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ডিপ্লোমেটিক সদিচ্ছা, সব ধরনের সদিচ্ছার প্রয়োজন। আমরা আশা করব, ভারত সরকার এটা শেখ হাসিনাসহ যে সকল আসামিরা ওখানে আছে, বাংলাদেশে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা যে বারবার তাদের সাথে যোগাযোগ করছি, আমরা চিঠি দিচ্ছি, তারা সেগুলোর রেসপন্স করবে এবং তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে অন্যান্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলেই মনে করছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্পর্ক তো সম্পর্কের জায়গায় থাকবেই এবং একটি দেশের সাথে আরেকটি দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটা বহুমাত্রিক হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে। আমাদের এক্সচেঞ্জ থাকবে। আমাদের ডায়লগ চলমান থাকবে, যা চলমান আছে।
বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের দিল্লি সফরের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আপনারা দেখবেন যে, বিমসটেকের একটা মিটিংয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ভিজিট করছেন। তো এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া।
শেখ হাসিনার রায় কার্যকর করাকে বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্র ও ইতিহাসের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই জুলাই মাসে এটা বলতেই হবে, যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মারা গেছে, যারা আহত অবস্থায় আছে, তাদের পরিবারের জন্য একটা ক্লোজার দরকার। তারাও তো দেখতে চায় যে যারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে খুন করেছে, তাদের ছেলেমেয়েরা আহত অবস্থায় বিছানায় তারা পড়ে আছে, হসপিটাল আছে… তাদের বিচারটা হচ্ছে। তো সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার খুবই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে এবং আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনা হোক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একাধিকবার আপনাদেরকে বলেছি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনই সংসদে এটা বলেছেন এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়াটা কী। যেহেতু সাজা হয়ে গেছে সেহেতু একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের কোনো আর সুযোগ নাই। সুতরাং তিনি যখনই বাংলাদেশে আসবেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এটাই আইনসম্মত হবে।
প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চালানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী, আমাদের কমিউনিকেশন যেটা ইন্টেরিম থেকে শুরু হয়েছে, যেমন হাসিনার মত আসামি, যেমন হাদি হত্যার আসামি, এরা যে ভারতে আছে, হাদি হত্যার আসামি জেলখানায় আছে, কোনো স্ট্যাটাসে নাই। হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে আছে, কোনো স্ট্যাটাসে নাই। তারা কীভাবে ফেরত আসবে, সেটা যদি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আসে, তাহলে এটার আইনগত নিয়ম আছে এবং ডিপ্লোম্যাটিক কিছু নর্মসও আছে। এই দুটো ফলো করে হয়ত উনি ফেরত আসবে, যদি আসে তাহলে সাথে সাথে অ্যারেস্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশে নতুন সফরের কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের কাজ নিয়ে বহু ব্যস্ত আছেন। মাত্রই দুটি দেশ অত্যন্ত সফলভাবে সফর করে এসছেন। পর্যায়ক্রমে সব দেশের সঙ্গে সফর বিনিময় হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










