ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

লোহিত সাগর বন্ধে হুতিদের প্রস্তুতির নির্দেশ ইরানের

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২১:৫১

লোহিত সাগর বন্ধে হুতিদের প্রস্তুতির নির্দেশ ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালালে লোহিত সাগরের তেল পরিবহন পথ বন্ধ করে দিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন তিনটি সূত্র। ইরানের এই নির্দেশ বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইয়েমেনে তাদের হুতি মিত্রদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি আঞ্চলিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তাদের ভাষ্য, তেহরানের ওই অনুরোধের কথা সম্প্রতি হুতিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

তবে এই নির্দেশ কীভাবে পাঠানো হয়েছে কিংবা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই বার্তাটি পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সূত্রগুলো সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল হোদাইদাহ, এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকা এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে হুতিরা।

ওই সূত্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গোষ্ঠীটি। বর্তমানে তারা ইরানের কাছ থেকে কেবল চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে যে কোনো অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পশ্চিম এশিয়ার প্রধান দুটি তেল রপ্তানি পথ একসঙ্গে অচল হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে।

হুতিদের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণের জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতিরা। এর ফলে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট’-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড রয়টার্সকে বলেন, “হুতি ও সৌদি আরবের এই সংঘাত অত্যন্ত বাজে একটি সময়ে সামনে এসেছে।”

তিনি বলেন, “লড়াই যদি আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং তা লোহিত সাগরের রপ্তানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির একমাত্র প্রধান বিকল্প রুটটিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুতিদের কাছ থেকে আসা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরব।

তাদের মতে, রিয়াদ এখন সজাগ রয়েছে যে, লোহিত সাগর ইস্যুতে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত