চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৫ জন আইসিইউতে
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:০৯

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনে দগ্ধদের মধ্যে পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন বাকি দুজন।
বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ বলেছে, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র বিকল ছিল। সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, আগুন লাগার বিষয়টি তাদের কাছে গোপন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। তার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালের ওই আগুনে ১০ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ৫ জন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি ৫ জন ঠিকদারের নিয়োগ করা শ্রমিক হিসেবে মেরামত কাজ করতে এসেছিলেন।
আগুনের ঘটনায় আহত ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে দুপুরে জানান হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
দগ্ধরা হলেন- দিদারুল আলম (৩২), উজ্জ্বল দাশ (৫৩), মোহাম্মদ লিটন (২৮), সিরাজুল ইসলাম (৩৪), জাহিদুল আলম (৪২), মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), নূর নবী (২৫), মোহাম্মদ আলম (৪৫), মাহামুদুল হক (৪৫) ও সেলিম উদ্দিন (৩০)।
তাদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ, আলমের ৬৫, মাহমুদুল হকের ৬০, উজ্জ্বলের ৫০, নূর নবীর ৪৫, লিটনের ৪০, জাহিদুলের ৩৫, সেলিমের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ ও সিরাজুলের ১০ শতাংশ করে পুড়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “শরীরের বেশির ভাগ পুড়ে গেছে, এমন ৫ জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
“তিনজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।”
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল।
“সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। একারণে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের এক পর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এতে সেখানে থাকা দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে। আর এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে যারা ছিল, তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।”
বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের লিডার আজাহারুল ইসলাম দুপুরে বলেছিলেন, “সকাল ১০টা ১০ মিনিটে খবর পেয়ে আমরা কারখানায় গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে কিছু পোড়া কাগজ দেখেছি। আমরা যাওয়ার আগেই সেখানকার লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেছিল।”
জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টা আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। গোপন করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনলাম, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”
এ বিষয়ে জানতে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের এজিএম বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে ও হোয়াটস অ্যাপে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, “কারখানার দগ্ধ শ্রমিকদের কয়েকজনের বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাইনি। তারা সবাই হাসপাতালে বলে জেনেছি।
“পরবর্তীতে কেউ মামলা করলে বা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










