ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ১১ মিনিট আগে
শিরোনাম

বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন রুনা লায়লা, পাচ্ছেন শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:১৮

বন্যার্তদের সহায়তায় গাইবেন রুনা লায়লা, পাচ্ছেন শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা
ছবি: সংগৃহীত

‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’- রুনা লায়লা বাংলাদেশের সংগীত ভুবনের এক অন্য দীপশিখা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী তাঁর অনন্য শিল্পসাধনা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।

তাঁর কণ্ঠে সংগীত কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, তা হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা, প্রেম, দেশাত্মবোধ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক চিরন্তন ভাষা।

যে কণ্ঠ সময়কে অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের সম্মান জানানো মানে একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে সম্মান জানানো।

এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সংগীতের ভুবনে তাঁর অবদানকে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে রুনা লায়লাকে সম্মাননা প্রদান ও একক সংগীতানুষ্ঠান।

এর আগে অনুষ্ঠানটি ১৮ জুলাই হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে ২৪ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে গান পরিবেশন করবেন রুনা লায়লা। শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে; এই অনুষ্ঠানের টিকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ২০০০ টাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং ডাঃ জাহেদ উর রহমান, উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা), পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

একক সংগীতানুষ্ঠানে উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা তাঁর জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করবেন।

ষাট বছরের সংগীত জীবনে বাংলা, উর্দু, হিন্দি পাঞ্জাবিসহ ১৮টি ভাষায় দশ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। গানে গানে সমাদৃত হয়েছেন দেশে দেশে, খ্যাতির অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রুনা লায়লা সিনেমায় প্লেব্যাক শুরু করেন কিশোরী বয়স থেকে। উর্দু গানের বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে গাইতেন। 'জুগনু' সিনেমা দিয়ে ১৯৬৫ সালে তার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার শুরু হয়। আর বাংলা সিনেমাতে গান গাওয়া শুরু করেন সুবল দাসের সুরে 'স্বরলিপি' সিনেমায়। পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার গান রেকর্ড হয়ে যায় তার।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে আসেন রুনা। সে সময় ভারতে বড় তিনটি কনসার্টে গান পরিবেশন করে সে দেশের দর্শকদের কাছেও সমাদৃত হন। বিশেষ করে ‘দমাদম মাস্ত কলন্দার’ গান গেয়ে ভারতে আলাদা পরিচিতি পান তিনি। ভারতের দুই কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের সঙ্গেও সখ্য ছিল রুনা লায়লার।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আটবার সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন রুনা। বাংলাদেশ সরকার এই শিল্পীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া ভারতে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার, ‘মিনার-এ-দিল্লি’ সম্মাননা। পাকিস্তান থেকে তার ঝুলিতে এসেছে নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কার।

কেবল গান নয়, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন রুনা লায়লা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত