ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৭

প্রিন্ট

‘৫০ হাজার টাকা বিকাশ না করলে ক্রসফায়ার’

‘৫০ হাজার টাকা বিকাশ না করলে ক্রসফায়ার’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আমি ডিবি পুলিশ অফিস থেকে বলছি। নারীসংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে আপনার ছেলে আমাদের কাছে আটক আছে, ছেলেকে বাঁচাতে চাইলে এই মুহূর্তে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করতে হবে। টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে।’

ডিবি পরিচয়ে রোববার এভাবে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে টাকা চাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের বাবার কাছে। তাৎক্ষণিক ছেলেকে বাঁচাতে বাবা বিকাশে পাঠিয়ে দেন ৫১ হাজার টাকা। টাকা দেয়ার পরপরই নাম্বারটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মশিউর রহমান জানান, তাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায়। বাবা স্থানীয় একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। রবিবার বিকালে তার বাবার কাছে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ০১৭২৫৪৩৮৬০৬ নম্বর থেকে ফোন করা হয়। তিনি বিপদে আছেন সেই কান্নাকাটিও তার বাবাকে মোবাইলে শোনানো হয়।

মশিউর বলেন, এসব শুনে বাবা দ্রুত স্থানীয় বাজারে গিয়ে পাঁচটি বিকাশ নাম্বারে প্রতারকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করেন। টাকা দেবার পর পরই তারা নাম্বারটি বন্ধ করে দেয়। পরে অবশ্য বাবা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা আবদুল কাদের বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন আসে। বলা হয় নারীসংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে ছেলেকে আটক করা হয়েছে। যদি ছেলেকে বাঁচাতে চান তাহলে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করেন। আমি জিজ্ঞেস করি আমার ছেলে কোথায়? তখন তারা ছেলের কান্নাজড়িত কণ্ঠ শোনায় এবং ‘আব্বা আমি খুব বিপদে আছি তাড়াতাড়ি ৫০ হাজার টাকা বিকাশ কর।’এটা বলার পরপরই মোবাইলের লাইন কেটে দেওয়া হয়। এরপরই ছেলের নাম্বারে ফোন করলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে দ্রুত স্থানীয় বড়াইকান্দি বাজারে গিয়ে বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে ০১৭৮৮-২৬৫৭৯৬ নম্বরে ১০ হাজার, ০১৯০৮-৪৫৮১১৬ নম্বরে ১০ হাজার ৪০০, ০১৬৭০-৪৬১৬১৬ নম্বরে ১৫ হাজার, ০১৯১৫-৫৪৫৬৫৩ নম্বরে আট হাজার ৬০০ এবং ০১৭৯১-৩৮৭৩৯৮ নম্বরে সাত হাজার টাকা খরচসহ মোট ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর পরে আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাই। সন্ধ্যার পর ও (মশিউর) আমাকে কল করে। বিষয়টি ওকে জানালে সে বলে এমন কিছু তার সাথে হয়নি। তখনই বুঝেছি আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

বড়াইকান্দি বাজারের বিকাশ এজেন্ট মশিউর রহমান বলেন, ‘বিকাল ৫টার দিকে আমার দোকানে এসে মশিউরের বাবা বলেন আমার খুব বিপদ, এখনই ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করি কী বিপদ? তিনি আমার কাছে কোনও কিছু না বলে আগে বিকাশ করতে বলেন। এরপর আমার এজেন্ট নম্বরে ২০ হাজার টাকা ছিল সেটা পাঠিয়ে দিই। আর বাকি ৩০ হাজার অন্য এজেন্টের কাছ থেকে পাঠান। টাকা পাঠানোর পর তিনি আমাকে ঘটনাটি বলেন।’

ঢাবি শিক্ষার্থী মশিউর বলেন, ঘটনার দিন আমি বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অবস্থান করছিলাম। লাইব্রেরিতে অবস্থানকালে মোবাইল নেটওয়ার্কের একটু সমস্যা হয়। মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে আব্বার ফোন আসে। আমি নামাজ শেষ করে তারপর আব্বাকে ফোন দিই। আব্বা আমাকে বলেন, আমি ঠিক আছি কি-না? আমি বলি হ্যাঁ আমি ঠিক আছি কেন কী হয়েছে? এরপর আব্বার সাথে কথা বলে বিস্তারিত ঘটনা শুনে আমিও হতভম্ব হয়ে গেছি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়তই আমাদের কাছে আসছে। মানুষকে আরও সচেতন থাকতে হবে। একজন ফোন করে টাকার কথা বললেই তাকে টাকা পাঠানো যাবে না। আগে খোঁজখবর নিতে হবে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close