ঢাকা, শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৭

প্রিন্ট

নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে পিজিআরের ভূমিকা প্রশংসনীয়: প্রধানমন্ত্রী

পিজিআরের ভূমিকা প্রশংসনীয়: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যদের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বাহিনীটির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে রেজিমেন্টের সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আরও উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের করতে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রেজিমেন্টের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখানোর জন্য পিজিআর সদস্যদের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, পিজিআর সদস্যরা যথেষ্ট পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন। নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তার সরকার পিজিআর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রথম ঝুঁকি ভাতার প্রবর্তন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ইতোমধ্যে সেনানিবাসে একটি ইনডোর পিস্তল ফায়ারিং রেঞ্জের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও রেজিমেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৩ সালে তিনি এর জনবল বৃদ্ধিসহ পিজিআরকে একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্টে রূপান্তরিত করার ধারাবাহিকতায়, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) সংযুক্তের ব্যবস্থা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা নিরাপত্তা প্রদান করবে, তাঁদের নিরাপত্তার কথাটাও আমাদের ভাবতে হয়, চিন্তা করতে হয়।

তাছাড়া এর সদস্যদের বাসস্থলের জন্য ইতোমধ্যে একটি ১৪-তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এই দেশ গড়ে উঠেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি সম্মানজনক অবস্থানে তাঁর জায়গা করে নেবে, আমরা সবসময় সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী একটি জাতি। কাজেই জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারের আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ইতোমধ্যে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট আমরা দিয়েছি। আমাদের প্রবৃদ্ধিকে ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্রের হার আমরা ২১ দশমিক ৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য আরো বড়, বাংলাদেশকে আমরা সম্পূর্ণ দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সক্ষম হয়েছি এখন আমাদের লক্ষ্য দেশকে দারিদ্রমুক্ত করা। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো ২০২১ সালে। তখন বাংলাদেশ হবে দারিদ্র মুক্ত দেশ।

১৭ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে তার সরকার ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। আমরা যে সেটা পারি, তা এই সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা নিজস্ব স্যাটেলাইটও আজকে উৎক্ষেপন করেছি (বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট)। যার ভিত্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই রচনা করে দিয়ে গিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদরদপ্তরে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম তাকে স্বাগত জানান।

এসময় পিজিআর’র একটি সুসজ্জিত দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী পিজিআর’র সকল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী পিজিআর’র বীর সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে অনুদান এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ারমার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন,রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম-উজ- জামান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মাদ জাভেদ পাটওয়ারী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত