ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৬

প্রিন্ট

৩০ বছর পর শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি

৩০ বছর পর শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ৩০ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রাখা রতন মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামের মৃত আবদুল মোমেনের ছেলে রতন মিয়া। এক সময়ের গ্রামের টগবগে যুবক রতনের জীবনের অর্ধেক সময় কেটে গেছে অন্ধকার কক্ষে শিকলবন্দী হয়ে। ঘরের বারান্দায় একটি ছোট্ট কক্ষে সিমেন্টের পিলারে মোটা লোহার শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে ৩০ বছর ধরে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে।

স্বজনরা জানান, তিন ভাই ও এক বোনের সংসারে রতন ছোট। বাবা-মা ও মেঝো ভাই বেঁচে নেই। প্রায় ৩০ বছর আগে গরু ফসল নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার এক ব্যক্তি তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এরপর থেকেই তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাকে চিকিৎসা না করিয়ে গোপনে ঘরের বারান্দায় একটি নির্জন আলো-বাতাসহীন কক্ষে শিকলে বেঁধে রাখেন তার এক বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া। সেই থেকে চলছে তার বন্দী জীবন।

অনেকের ধারণা, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করার জন্যই তাকে কৌশলে পাগল বলে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

তবে তার বড় ভাই আঙ্গুর মিয়ার দাবি, রতন মানসিক ভারসাম্যহীন। লোকজনের ক্ষতি করতে পারে। এ জন্য তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাবার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য ছোট ভাইকে বেঁধে রাখার অভিযোগ সত্য নয়। এলাকার লোকজন অনেক দিন ধরেই জানেন রতন পাগল।

পাকুন্দয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, রতনের রক্তশূন্যতা ও পুষ্টির অভাব আছে। আমরা আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করবো এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

সমাজসেবা অফিসার রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান ও পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানেকে সঙ্গে নিয়ে শিকল ভেঙে রতনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর চিকিৎসার সকল ধরনের সহযোগিতা করবে।

পাকুন্দয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর রতনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি অমানবিক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত