ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১০

প্রিন্ট

শিক্ষকের বেদম পিটুনিতে শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে

শিক্ষকের বেদম পিটুনিতে শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

শিক্ষকের বেদম প্রহারে মো. মাছুম (১২) নামের এক শিশু শিক্ষর্থী গুরুতর আহত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ মজুপুর মদিনাতুল উলুম নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীকে সোমবার সকালে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি সদর উপজেলার দীঘলি ইউনিয়নে।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মোবারক করিম আত্মগোপন করেছেন বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা মো.আব্দুল হাই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, তার শিশুপুত্র মাছুম ওই মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে হেফজ শিক্ষায় অধ্যয়নরত। কয়েকমাস থেকে ধরে সে অসুস্থ। এরপরেও সে পড়ায় মনোযোগী থাকায় মাদ্রাসাতেই অবস্থান করছিল।

সোমবার ভোরে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের সকালের সবকে সে অংশ নিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। অসুস্থ থাকায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার এমন অক্ষমতা দেখা দেয়। অথচ শিক্ষক মোবারক তা সহজে মেনে নিতে পারেননি। সবক দিতে না পারায় শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বেত দিয়ে বেদম প্রহার করেন শিশু মাছুমকে। বেতের আঘাতে শিশুটি রক্ষাক্ত জখম হয়। অচেতন হয়ে পড়ে।

পরে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা তাকে মোবাইল ফোনে খবর দেন। সকালে তিনি এসে আহত অবস্থায় ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাছুম জানায়, অসুস্থতার কারণে তার শরীর খুব দুর্বল ছিল। এজন্য সে নিয়মিত সবকে আসেনি। এ অপরাধে শিক্ষক (হুজুর) তাকে বেত দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জানান, আহত ছাত্রটির শরীরের পেছনে পিঠের অংশে ও কোমরের নিচে অসংখ্য রক্তাক্ত দাগ রয়েছে।

ওই মাদ্রাসার ব্যাপস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবর হোসেন জানান, বিষয়টি খুবই অমানবিক। ঘটনাটির বিষয়ে তারা পরে জেনেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সচেতন সমাজ ঘটনাটিকে বেআইনি উল্লেখ করে যথার্থ শাস্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিজ এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ওই শিক্ষক অমানবিকভাবে মারধর করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত