ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:০৩

প্রিন্ট

আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান

দোহার ও নবাবগঞ্জে অনুপ্রবেশকারীরা আতঙ্কে

দোহার ও নবাবগঞ্জে অনুপ্রবেশকারীরা আতঙ্কে
নবাবগঞ্জ ও দোহার( ঢাকা) প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের মধ্যে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলমান থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারী সহ দোহার ও নবাবগঞ্জের একাধীক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন ।

দলীয় সূত্র জানায়, দোহার নবাবগঞ্জে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েক জন ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালীদের নাম রয়েছে যারা পদ হারানোর ভয় ও আতঙ্কে আছেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়দাতা ও তৃণমূল পর্যায়ে অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবী বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সাধারন সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অর্থের বিনিময়ে যোগ্য নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঠাঁই দিয়েছেন। ফলে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ঠাঁই হয়নি। এছাড়া দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও পরে আর দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। এমন অনেক ইউপি চেয়্যারম্যান আছেন যারা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আগামী দিনে আবার চেয়াম্যান হবার স্বপ্ন দেখছেন। দলের হাই কমান্ডের উচিত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় দোহার ও নবাবগঞ্জে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় জমেছে। ত্যাগী ও দুর্দিনের নেতাকর্মীদের অধিকাংশের এখন আর দলে পদ-পদবী নেই। উপজেলা পর্যায়ে সহযোগী সংগঠনগুলোতে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অস্ত্রবাজ, ইয়াবাখোর ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন অনেকের নাম লোক মুখে প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। পদপদবী নিয়ে তারা কু-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব সুবিধাবাদী হাইব্রিড তথা অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, সড়ক ও ব্রীজে অবৈধভাবে টোল উত্তোলন, নদী-পুকুর-খাল-কৃষিজমি বিনষ্ট করে মাটি ও বালু উত্তোলন এবং ভূমি অফিসে দলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করে রাতারাতি অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন।

এসব অনুপ্রবেশকারী নেতারা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও শুদ্ধি অভিযানে আতঙ্কিত হয়ে এখন নিরব ভূমিকা পালন করছেন নয়তো এলাকা ছাড়ছেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম মাস্টার বলেন, আমরা রাজনীতিতে এসে ছিলাম বঙ্গবন্ধু ও দেশকে ভালোবেসে। আওয়ামীলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াহিয়া চৌধুরী পিন্টুর সহযোগিতায় ৭১ সালে মুজিব বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ঘাতকদের হাতে নিহত হলে বহু দিন পলাতক ছিলাম। নিজ বাড়িতে থাকতে পারিনি। আজ দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী তথা হাইব্রিড নেতাকর্মীদের কার্যক্রম দেখে মনে হয় আমরা কেউ কোন দিন আওয়ামীলীগের সাথে যুক্ত ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই দাবি, এসব অনুপ্রবেশকারী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

বক্সনগর ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া বলেন, বর্তমান সময়ে একশ্রেণীর ধান্দাবাজ আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের একটাই কাজ আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থবিত্তের মালিক হওয়া। এখন সময় এসেছে অনুপ্রবেশকারীদের বিদায় করে দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই দাবি, সৎ, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের যেন তিনি মূল্যায়ন করেন।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে নিয়েছি এবং আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী। তবে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি নন।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার বলেন, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অপরাধী যে-ই হোক তাকে ছাড় দেয়া উচিত হবে না। অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক দোহার থানা আওয়ামীলীগ এটাই কামনা করে।

এই অঞ্চলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, নবাবগঞ্জ ও দোহারে বঙ্গবন্ধু তথা আওয়ামী লীগের আদর্শে যারা বিশ্বাসী নন, তারাই এখন আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড ইউনিয়নের নেতা। কেউ আবার সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের নেতা সেজে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। তারা নবাবগঞ্জ ও দোহারে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। অনেকে আবার অবৈধভাবে অর্জন করা সম্পদ রক্ষা করতে সম্পৃক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগে। অনুপ্রবেশকারী এসব হাইব্রিড নেতারাই গিলে ফেলছেন আওয়ামী লীগের সব অর্জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত