ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৩০

প্রিন্ট

যে কারণে হাজি সেলিমের রোষানলে কাউন্সিলর মানিক

যে কারণে হাজি সেলিমের রোষানলে কাউন্সিলর মানিক
আহমেদ ইসমাম

নানা কল্যাণমুখী কাজের কারণে পুরান ঢাকার লালবাগ ২৬ নং ওয়ার্ডের তরুণ কাউন্সিলর মানিক ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তবে এ বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি সেলিম কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ মানিকের। যে কারণে তিনি হাজি সেলিমের রোষানলে পড়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ নভেম্বর শনিবার পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় হাজি আবদুল আলিম খেলার মাঠ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মানিককে মারধর করেন হাজি সেলিম।

এলাকাবাসীর সথে কথা বলে জানা যায়, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হাজি সেলিমের পছন্দের প্রার্থী ছিল গনি। তাকে হারিয়ে কউন্সিলর হন মানিক। এছাড়াও মানিক গত জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের আগে নৌকা প্রতীকের জন্য এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালান। তাকে নিয়ে লেখা একটি গান সারা দেশে বেশ জনপ্রিয়তা পায় (মানিক ভায়ের সালাম নিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন)।

এ সব নিয়ে মানিকের ওপর হাজি সেলিমের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। পুঞ্জিভূত সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে নাম ফলকে তার নাম না থাকার ঘটনায়। রাগ সামলাতে না পেরে নিজেই মঞ্চে উঠে ভাংচুর করেন। কাউন্সিলর মানিককে চর থাপ্পর মারেন।

নাম ফলকে হাজি সেলিমের নাম কেন থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তার একান্ত সচিব মাহিউদ্দিন মাহাবুব বেলাল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, তিনি ওই এলাকার সংসদ সদস্য। তাই তার নাম থাকতেই হবে। এটা বাদ দেয়া মানে তাকে অপমান করা। এটা করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। মারধরের বিষয়টি নিয়ে তিনি আরো বলেন, মঞ্চে উঠে ভাংচুর করেছেন এটা সত্য, তবে তাকে মারার বিষয়টি সাজানো। বিষয়টি সাথে সাথে মিটে গেছে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন সাথে সাথে বিষয়টি মিটমাট করে দেন। এটা নিয়ে বাড়াবড়ি করার কিছু নাই। মঞ্চে থাকা বিশেষ একজন ব্যক্তির ইশারায় সাংবাদিকরা এই সামান্য বিষয়টি বড় করে তুলছেন। তবে সেই ব্যক্তিটি কে তিনি খোলাসা করেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বয়সে তরুণ কাউন্সিলর মানিক এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়।

সদ্য খুলে দেয়া শহীদ হাজী আব্দুল আলিম মাঠের পাশে পান বিক্রি করেন আলিম। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ছেলেটা ভালো না হলে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী থাকার পরেও কিভাবে কাউন্সিলর হতে পারল। সে আসার পর থেকে এলাকায় অনেক সমস্যা মিটে গেছে। বিশেষ করে পানির সমস্যা। আগের মত আর যেখানে সেখানে ময়লাও পড়ে থাকতে দেখি না।

সূত্র জানায়, কাউন্সিলর মানিক ওয়াসার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হওয়ায় পুরান ঢাকার একাধিক এলাকায় পানির সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। এতে নিজ এলাকা ছাড়িয়ে অন্য এলাকায়ও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ সব নিয়ে তার বিরোধী পক্ষ আগে থেকেই ইর্ষান্বিত ছিলো। তারই প্রতিফলন ঘটে খেলার মাঠ উদ্বোধনকে ঘিরে হামলার ঘটনায়।

সূত্র আরো জানায়, এই ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে একাধিক নেতা কাউন্সিলরকে ফোন করেছেন।

হামলার ঘটনায় কাউন্সিলর মানিক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এই মাঠটি প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্পের অংশ। এখানে আমরা কোনো টাকা দিচ্ছি না। এটা পুরোপুরি বাইরের প্রকল্প। আমাকে মেয়র সাহেব শুধু অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজী সেলিমের নাম রাখি এবং তাকে কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দিয়ে আসি। নাম ফলকের কার কার নাম থাকবে আর থাকবে না সেটা প্রকল্প পরিচালকের এখতেয়ার।

তিনি আরো বলেন, এই মাঠটি আগে বেদখল ছিল। এটি উদ্ধারে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এরপর খেলার মাঠের জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে। এটা নিয়ে পুরান ঢাকাবাসীর আনন্দের শেষ নেই। আমরা চাচ্ছিলাম এই অনুষ্ঠানটা যেন বন্ধ না হয়ে যায়। যার ফলে আমি হাজি সেলিমের কাছে গিয়ে অনুরোধ করছিলাম যেন তিনি আর ভাংচুর না করেন। কিন্তু তারপরেও আমাকে মারেন এবং ভাংচুর চালিয়ে যান।

পুরান ঢাকার একাধিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান ফটকে হাজি সেলিমের নাম ও ছবি। এ সব নিয়ে এলাকার মানুষ কিছুটা বিরক্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদ পর্যন্ত সব জাযগায় হাজি সেলিমের নাম দেখা যায়; কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ পুরনো। এলাকা বিভিন্ন জায়গায় হজি সেলিমের নাম ও ব্যানার দেখে বোঝা যায় তার এই এলাকায় একক আধিপত্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত