ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১০

প্রিন্ট

বিমানে এলো তুরস্কের পেঁয়াজ

বিমানে এলো তুরস্কের পেঁয়াজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতীক্ষা পর দীর্ঘপথ পেরিয়ে শুক্রবার তুরস্ক থেকে বিমানে ১১ টন ৪৫৩ কেজি পেঁয়াজ ঢাকায় এসেছে। মেসার্স তাজ ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানে এই পেঁয়াজ আমদানি করেছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পেঁয়াজ বহনকারী কার্গোবিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দর কাস্টমসের অফিসার সাজ্জাদ হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেঘনা গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। এই পেঁয়াজ সরকারকে দেবে মেঘনা গ্রুপ। সরকার টিসিবির মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করবে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় করার সব প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া আছে। বিমানবন্দরে কাস্টমস এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য নিয়ম দ্রুত সম্পন্ন করে পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে এবং আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি করছে।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছুদিন আগে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।

ইতিমধ্যে আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়। স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এর আগে গত বুধবার আকাশপথে পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দর থেকে পেঁয়াজের প্রথম চালান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। চালানটির আমদানিকারক ঢাকার শাদ এন্টারপ্রাইজ। চালানটিতে ৮১ টন ৫০০ কেজি পেঁয়াজ ছিলো।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় উঠে যায়। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দেয় সরকার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত