ঢাকা, সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৫৬

প্রিন্ট

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

বিএনপি-আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা

বিএনপি-আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী তাদের নিজ নিজ ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

শনিবার নগরীর জামালখানে একটি রেস্তোরাঁয় বিএনপির প্রার্থী ৭৫ দফার ও প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে নৌকার প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩৭ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজনীতি করছি অসহায় আর নিপীড়িত জনতার পাশে থাকতে। কতটুকু পেরেছি তার বিচারের ভার আপনাদের হাতে। নির্বাচিত হলে আমি নগরপিতা নয়, নগর সেবক হতে চাই।

জলাবদ্ধতা সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে পরিচ্ছন্ন এবং সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম মহানগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শনিবার দুপুরে নগরীর জামালখানে একটি রেস্তোরাঁয় ইশতেহার ঘোষণায় এসব কথা বলেন ধানের শীষের এই মেয়র প্রার্থী।

ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সাবেক সকল মেয়রসহ এক্সপার্টদের সাথে নিয়ে সুপারিশক্রমে জলাবদ্ধতা, যানজটমুক্ত, আধুনিক নগরী গড়ে তুলব।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, নিরাপদ চট্টগ্রাম, সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতামুক্ত পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবান্ধব, তথ্য-প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নান্দনিক পর্যটন নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়তে মেয়রপদে ভোট চাই।

ইশতেহারে চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোকে মোটাদাগে নয়ভাগ করে মোট ৭৫টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। তা বাস্তবায়নে কী করবেন, তার রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে শাহাদাত বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সব খাল উদ্ধার করে খনন করা হবে পানি চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষার আগে প্রতি বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল, নালা-নর্দমা সংস্কারসহ পানি চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।

নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়তে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, সাম্য-সম্প্রীতির চট্টগ্রাম, নান্দনিক পর্যটন নগর ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও মেয়রপ্রার্থী শাহাদাত তার ইশতেহারে বলেছেন।

নৌকার প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ইশতেহার ঘোষণায় বলেন, একটি জনপদ বা নগর তখনই নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাস উপযোগী হয়, যখন সব নাগরিক নিজের বাসগৃহের মতো এটার যত্ন নেয়। আমরা পারিনি কারণ অধিকার বা দাবি সচেতন হলেও আমাদের মাঝে নাগরিক দায়িত্ব পালনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমি নিজেও এই দায় এড়াতে পারি না।

ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজাউল বলেন, নেত্রী নৌকা প্রতীক যাকে দিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রামের মানুষের কাছে একজন সৎ, সাদা মনের মানুষ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা। প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী যেভাবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নগরীকে আধুনিক চট্টগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলবেন।

এসময় তিনি বলেন, সব মতের মানুষের মতামত নিয়ে অতীতকে ফেলে নতুনের দিকে এগোতে চাই। সবার সাথে পরামর্শ করে সবার মেধাকে কাজে লাগাব। সেই পরামর্শ যদি মানুষের উপকারের হয়, টেকসই হয়, বাস্তবায়নযোগ্য হয় তাহলে সব কাজে লাগাব।

নৌকার এই প্রার্থীর ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির প্রধান কয়েকটি হল জলাবদ্ধতা নিরসন, ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি, যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-নর্দমা, খাল-নদী দখলদার উচ্ছেদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

পাশাপাশি পর্যটন রাজধানী হিসেব চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতিও দেন মেয়র প্রার্থী রেজাউল।

ইশতেহার ঘোষণার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম নগর কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর উপস্থিত ছিলেন। নৌকার এম রেজাউল করিম চৌধুরীর ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. অনুপম সেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

আরও পড়ুন- আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়রপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যার হুমকি

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত