ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে
শিরোনাম

চট্টগ্রামে শিশু অপহরণ ঘটনায় চাচাসহ গ্রেপ্তার ৩

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৬

চট্টগ্রামে শিশু অপহরণ ঘটনায় চাচাসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে অপহৃত সাত বছর বয়সি শিশুকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, মেয়েটি তার চাচার হাতে অপহৃত হয়েছিল।

শিশুটির চাচা মো. ফয়সাল তাকে নিজের বাসায় আটকে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিও করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ক্ষেত্র বাজার এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে ওই শিশুটকে উদ্ধারের পাশাপাশি ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ফয়সাল (৩২), মো. রাকিব (২২) ও জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

তাদের মধ্যে ফয়সাল অপহৃত শিশুটির বাবার মামাত ভাই।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃত শিশু রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। সোমবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ভাতিজিকে তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যায়।

তার পর ক্ষেত্র বাজার এলাকায় ‘নিজের বাসায় আটকে রাখে’ বলে চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন।

মেয়েকে না পেয়ে তার বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় এরপর মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধার করে।

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি করায় মেয়ের বাবা খোঁজ করতে শুরু করে। পরে এক সহপাঠীর কাছে জানতে পারেন যে তাকে অটোরিশকায় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার পর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় শিশুটি

সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত বলেন, মেয়েটিকে যে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটির মালিক হলেন তার চাচা ফয়সাল। স্থানীয় একটি দোকানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার তাদের রিকশায় করে যাওয়ার ভিডিও পাওয়া যায়।

ওই ভিডিও ধরে পুলিশ তদন্তে নামে জানিয়ে তিনি বলেন, “অটোরিকশার মালিকানা যাচাই করে ফয়সালের তথ্য পাওয়া যায়। তখন রিকশাটির চালক রাকিবকে ও সহযোগি হিসেবে থাকা জাহাঙ্গীরকে ধরা হয়।”

পুলিশ কর্মকর্তা বেলায়েত বলেন, নিয়মিত বাসায় যাতায়াত থাকায় ফয়সালের পরিচয় ছিল শিশুটির।

“সেজন্যে সে সহজেই অটোরিকশায় উঠে যায়। পরে তাকে নিয়ে ক্ষেত্রবাজার এলাকায় ফয়সালের ভাড়া বাসায় নিয়ে রেখে দেয়। রাতে তিন জনকে আটকের পর ফয়সালের বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”

খোঁজাখুঁজিতে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন ফয়সাল

এএসপি বেলায়েত বলেন, মেয়েটির বাবা ও ফয়সাল আগে প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে দুই জনই দেশে ফিরে আসেন। ওই পরিবারের সঙ্গে ফয়সালের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

“শিশুটি খুঁজে না পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি, থানায় মামলা করা এমনকি গতকাল শিশুটির মায়ের সাথে মাজারেও গিয়েছিল ফয়সাল। যাতে কোনোভাবে তাকে সন্দেহ করা না যায়।”

বেলায়েত বলেন, অটো রিকশার সূত্র ধরেই মূলত ফয়সালকে ধরা হয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত