ঢাকা, রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৩:৪৯

প্রিন্ট

নিষিদ্ধ ‘টমটমে’ তটস্থ হবিগঞ্জ

নিষিদ্ধ ‘টমটমে’ তটস্থ হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ শহরে নিষিদ্ধ টমটম, ছবি- প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ৫ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছিলো ১০ টাকা। বলা হয়েছিলো, সরকারি ঘোষণা এলে আবার আগের ভাড়ায় বহাল থাকবে। সকল যানবাহনের ভাড়া কমেছে প্রায় দুই মাস হলো। কিন্তু হবিগঞ্জের ‘টমটমের’ ভাড়া এখনো কমেনি!

যার ফলে প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। এমনকি ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে অনেকবার।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে চৌধুরী বাজার যাওয়ার পথে এক বৃদ্ধ যাত্রীকে ৫ টাকার জন্য গালিগালাজ করে এক চালক। এমনকি ওই বৃদ্ধকে আধাঘণ্টা দাঁড় করিয়েও রাখে সেই চালক। প্রতিবাদ করতে গেলে গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা চালায় চালক।

এ ব্যাপারে পৌরসভায় বেশ কয়েকবার অভিযোগও দিয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু পৌর মেয়রের নীরবতায় সেই অভিযোগগুলো চাপা পড়ে যায়।

স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, পৌর মেয়রের সম্মতিতেই এই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে চালকরাও দাবি করেছেন, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র মিজানুর রহমানের সম্মতি নিয়েই হবিগঞ্জ টমটম মালিক শ্রমিক পরিষদ এই ভাড়ার মূল্য তালিকা করে দিয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে পৌর মেয়র মিজানুর বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘এ রকম কোনো ধরণের সম্মতি তিনি দেননি।’

‘তবে কেউ খুশি হয়ে ৫ টাকা অতিরিক্ত দিলে চালকরা নেবে। জোর করা যাবে না’ বলেও জানান মেয়র।

শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক খালেক (১৮) বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘টমটমের চাপের কারণে এই শহরে রিকশাচালকেরাও অসহায়। শহরে এত বেশি টমটম, রিকশা চালাতেও অলিগলি খুঁজতে হয়।’

প্রায় একইরকম মন্তব্য করেন শাকিল আহমেদ নামে এক কলেজ ছাত্র। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালাতে এই শহরে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। টমটমের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহনীয় যানজটের কবলে পড়তে হয়। ভুক্তভোগী পৌরবাসীরা যানজটের পাশাপাশি টমটমের কারণে প্রায় সময় দুর্ঘটনাতেও পড়ছেন।’

প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সারাদেশে টমটমের চলাচল নিষিদ্ধ হলেও হবিগঞ্জ পৌরসভা এসব টমটমের চলাচলে অনুমতি বাবদ নম্বর প্লেটও ইস্যু করেছে। এমনকি পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতি টমটমের নিবন্ধনের নম্বর প্লেট ফি বাবদ ৮ হাজার করে টাকা নিচ্ছে। আর পৌরসভার এই নম্বর প্লেট যদি কেউ না নেয় তাহলে তার টমটমকে অনুমোদনহীন বা অবৈধ বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।

সারাদেশে নিষিদ্ধ টমটম তবুও পৌর কর্তৃপক্ষ চলাচলের অনুমোদন দিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র মিজানুর বলেন, ‘শহরবাসীর চলাচলের পথ সুগম করতেই এটা করা হচ্ছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহরে চলাচলের জন্য টমটমকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।’

‘তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই এসব যান চলাচল করছে’ বলেও দাবি করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ১ হাজার ২০০ টমটম চলাচলের জন্য পৌরসভার অনুমোদন ছিল। চাহিদা থাকায় তিনি নতুন করে আরো ১০০ টমটম চলাচলে অনুমোদন দিয়েছেন।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত