ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২০, ২১:৫৪

প্রিন্ট

বছরের প্রথম ছয় মাস

করোনায় কমেছে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা

করোনায় কমেছে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা
মৃত্তিকা সাহা

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। দেশে নতুন কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। বরং আমদানি-রফতানিসহ সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে আছে। নতুন কোনো বিনিয়োগও নেই। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায়। বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমে গেছে। তবে সংকটের মধ্যেও বেড়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা। এসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও বেসরকারি অধিকাংশ ব্যাংকেই মুনাফা কমেছে।

পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ এবং আয়কর প্রদানসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিলে নিট মুনাফা পাওয়া যাবে। যা আরো অনেক বেশি কমে যাবে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারেই বন্ধ রয়েছে। আর ব্যাংকের ব্যবসা নির্ভর করে আমদানি-রফতানিসহ দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও উপর। দেশের পুরো অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবার ব্যাংকের ব্যবসাও ভালো হয়নি। যে কারণে অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমেছে।

ব্যাংকগুলো থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ৬ মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৩১ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৪৯০কোটি টাকা। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ১৩০ কোটি টাকা। গেল বছরে ছিল ৭৫ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড মুনাফা করেছে ২৪৩ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৮ কোটি টাকা কম। ২০১৯ সালের (জানুয়ারি-জুন) এই সময়ে পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৩১ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ৩১০ কোটি টাকা। যা আগের বছরে ছিল ২৮০ কোটি টাকা। এসবিএএল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমে হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। গেল বছরে ছিল ৯০ কোটি টাকা। আল আরাফাহ ব্যাংক ছয় মাসে ৩০৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আগের বছরে ছিল ৪০০ কোটি টাকা। ডাচ বাংলা ব্যাংক এখন ৭০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আগে ছিল ৯০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক প্রথম ছয় মাসে ৩১৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আগের বছরের ছয় মাসে ছিল ৩৩০ কোটি টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক মুনাফা করেছে ৩৪২ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫০৬ কোটি টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ১৭৫ কোটি টাকা, আগে যা ছিল ২৯৫ কোটি টাকা। এদিকে পূবালী ব্যাংকের মুনাফা ৪০৫ কোটি টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫৪৬ কোটি টাকা। শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক ২৪৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, গেল বছর জুনে ছিল ৩২৫ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক ২০২ কোটি টাকা, আগে যা ছিল ২৬৮ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২৯০ কোটি। আগের বছরে যা ছিল ৩৬২ কোটি টাকা।

এসব ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোরও মুনাফা কমেছে। নতুন ব্যাংক হিসেবে সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি টাকা। আগের বছরের এই সময়ে (জানুয়ারি-জুন) মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯০ কোটি টাকা। মধুমতি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। মেঘনা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৪৪ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২ কোটি টাকা। এনআরবিসি ব্যাংক ৮৯ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। আগে যা ছিল ৯০ কোটি টাকা। মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫২ কোটি। গত বছরের এই সময়ে তাদের মুনাফা ছিল ৬৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, পরিচালন মুনাফা থেকে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন খাতে সঞ্চিত সংরক্ষণ এবং আয়কর বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা হচ্ছে নিট মুনাফা। অনেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মোটা অংকের পরিচালন মুনাফা হলেও নিট মুনাফা দাঁড়ায় একেবারেই নগণ্য। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ থাকায়, আলোচিত ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা কত দাঁড়াবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তাই শুধু পরিচালন মুনাফার হিসাবের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত