ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:৪২

প্রিন্ট

ব্যাংক কর্মকর্তাদের অর্থমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ব্যাংক কর্মকর্তাদের অর্থমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
জার্নাল ডেস্ক

ঋণের নামে ব্যাংক থেকে প্রতারণা করে যারা টাকা বের করে নিয়েছেন, এবং এই টাকা বের করতে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তারা তাদেরকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মন্ত্রী জানান, সরকারি, বেসরকারি প্রতিটা ব্যাংকেই বিশেষ অডিট করা হবে। কাদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে সেই গ্রাহকদের সরাসরি চেনা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে।

‘প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা হবে। ঋণ দেওয়ার জন্য সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সাবধান, সাবধান, সাবধান। কেউ অসাধু উপায়ে ব্যবসা করার চিন্তা করবেন না।’

বুধবার রাজধানীতে রাষ্ট্রায়াত্ব রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি ব্যাংকিং খাতের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতা দূর করতে সরকারের চিন্তা তুলে ধরেন।

গত এক দশকে দেশে অর্থনৈতিক সূচকগুলো ঊর্ধ্বগামী থাকলেও ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। খেলাপি ঋণ আদায়েও সাফল্য কম।

বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। এর বাইরে অবলোপন করা হয়েছে আরো প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তৃতীয় বারের সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরানোর অঙ্গীকার করেছিলেন মুস্তফা কামাল।

মন্ত্রী বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ছাড় নয়। যারা এদেরকে সাহায্য করবে (ব্যাংকের) তাদেরকেও কোনো ছাড় নেই। সময় কঠিন, সিদ্ধান্তও কঠিন।’

‘যারা এলসি খুলছে তারা কী পরিমাণ খুলছে এবং কী পরিমাণ (পণ্য) আনছে, সেটাও উদঘাটন করা হবে। এতে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এতে ব্যবসা বাণিজ্যের কোনো ক্ষতি হবে না।’

খেলাপি ঋণ আদায়ে যেসব আইনের সংস্কার করা প্রয়োজন, সেগুলোতেও সরকার হাত দেবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে দুই ধরনের ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রথম শ্রেণি হলো যারা আসলেই ব্যবসা করতে চান, কিন্তু মাঝে মাঝে হোঁচট খান। হোঁচট খেয়ে খেলাপিতে পরিণত হন। তাদের প্রতি সহনশীল হতে হবে।’

‘আরেক ব্যবসায়ী শ্রেণি আছেন যারা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য ঋণ নেন। তাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সেই টাকা আদায়ে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটাই করা হবে বলে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ অবশ্যই একটি অপরাধ। এটি জনগণের টাকা, দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এই টাকা কাজে লাগে। এটার সঠিক ব্যবহারে উদ্দেশ্য পূরণ হবে, কিন্তু যারা এটার অপব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গ্রহীতারা যে খাতে ঋণ নিতে চায় তার গুণগত মান বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘রূপালী ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৮ শতাংশ দাঁড়িয়েছে এবং পরিচালনা পরিচালন মুনাফা ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। সঞ্চিতি পূরণের পর খুব বেশি লাভ থাকবে না।’

ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়নে কর্পোরেট গভর্নেন্স বা সুশাসনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। এর যেকোনো ধরনের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ব্যাপার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ রূপালী ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close